‘ অভিষেক দাশের ’ ছোঁয়ায় বদলে গেছে মুরাদনগর

যেভাবে কেটেছে ইউএনও অভিষেক দাশের তিন বছর/
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

এন এ মুরাদ ।। করোনা যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের অগ্রপথিক, অসহায় মানুষের সহায়- ইউএনও অভিষেক দাশ । মুরাদনগর উপজেলায় যোগদান করেছেন ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই, রোজ বুধবার।
দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় ৩ বছর।
৩৬ মাসের কর্মঘন্টার প্রতিটি সময়ই ব্যায় করেছেন উপজেলার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার রক্ষায় সঠিক তত্বাবধান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের প্রয়োগসহ সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ডে । অত্যান্ত নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে জয় করেছেন মানুষের মন। তার যোগদানের পর থেকে একের পর এক জনবান্ধব উদ্যোগে বদলে গেছে মুরাদনগর উপজেলার দৃশ্যপট।

ইউএনও অভিষেক প্রশাসনিক কর্মকান্ডের বাহিরে গিয়েও মানবিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে খুবই পছন্দ করেন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাবে কেউ অবহেলায়-অযত্নে পড়ে আছেন এমন খবর শুনলে ছুটে যান তাদের বাড়িতে। দিচ্ছেন অন্নহীনকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন । ঈদে নতুন জামা কিনে দিয়ে হাসি ফুটিয়েছেন ছিন্ন মূল পথ- শিশুদের মুখে।

এছাড়াও সরকারি ত্রাণের সুষ্ঠ বন্টন করেছেন সকল ইউনিয়ন পরিষদের মাঝে। প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যখন কোন ইউপি থেকে বঞ্চিত হওয়ার খবর শুনেছেন তখন তাদের কাছ ত্রাণ পৌঁছানোর যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহের রাতে কোম্পানীগঞ্জ ও মুরাদনগর বাজারের অলি-গলিতে ঘুমিয়ে থাকা ভবঘুরে ,বাজারের নিরাপত্তা কর্মী, ও শতাধিক শীতার্ত মানুষকে কম্বল দিয়ে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একইভাবে গভীর রাতে খাবার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন বেদে পল্লীতে।
চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে ট্রলার ডুবে নিহত মুরাদনগরের শ্রমিক আউয়ালের মৃত্যুর খবর শুনে তার বাড়ি গিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রণালয় তহবিল থেকে দিয়েছেন বিশ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান।

মহামারি করোনার প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হন এই সম্মুখ যোদ্ধা । এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি। আইসোলেশনে থেকে ভার্চুয়্যাল মিটিংয়ের মাধ্যমে চালিয়েছেন প্রশাসনিক কার্যক্রম।

কোম্পানীগঞ্জ বাজারের জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে পুর্বের ইউএনও’রা ব্যর্থ হলেও বহু প্রচেষ্টার পর মুরাদনগরের সাংসদ আলহাজ্ব ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন (এফসিএ) ও স্থানীয় দুই ইউপি চেয়ারম্যান এর সার্বিক সহযোগীতায় সফল হয়েছেন ইউএনও অভিষেক দাশ ।

মুরাদনগর উপজেলার অভুতপূর্ব সাফল্যের একমাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউএনও’র তিন বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র ১২ দিন। নিয়ম মাফিক বিদায়ের ঘন্টা দরজায় কড়া নাড়ছে। ১৫ জুন মুরাদনগর সদর ইউপি নির্বাচনের পর প্রশাসনিক নিয়মেই হয়ত অন্যত্র বদলী হয়ে যাবেন জনবান্ধব এই ডায়নামিক অফিসার ।
বিদায়ের পূর্বেই কর্মময় জীবনের নানান বিষয় নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক অঙ্গণ, ও জনতার প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও অভিষেক। এই উপজেলায় যোগদানের পর ২০১৯ সালে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে শ্রেষ্ঠত্বের এই স্বীকৃতি দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ।
ইউএনও অভিষেক দাশের কর্মময় জীবন নিয়ে- শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক , রাজনৈতিক নেতা ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া “কুমিল্লার জমিন”কে ব্যক্ত করেছেন যা নিন্মে তুলে ধরা হলো ঃ
কোম্পনীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল হক বলেন, এই উপজেলায় এর আগে যত ইউএনও আসছেন স্যারের মতো কাউকে পাইনি। অভিষেক দাশ স্যার আমার দেখা একজন শ্রেষ্ঠ ইউএনও। যেকোন কাজে তার কাছে গেলে তিনি সহজ ভাবে এর সমাধান করে দিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, “ ইউএনও অভিষেক দাশ স্যার আমার দেখা একজন সেরা ইউএনও। কখনো কোন কাজ নিয়ে আমাদের হয়রানি করেননি। সব সময় ভালো ও সুন্দর সেবা পেয়েছি ”।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ আহম্মেদ শিকদার বলেন, “ আমি এর আগে পূর্বে সাত জন ইউএওর সাথে অন্যত্র কাজ করেছি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার কাছ থেকে সর্বাত্বক সহযোগীতা পেয়েছি ”।
নবীয়াবাদ আলহাজ্ব ওয়াদুদ সরকার কামিল মাদ্রসার অধ্যক্ষ মোঃ বদিউল আলম বলেন, ইউএনও স্যার আমাদের মাদ্রসার সভাপতি। তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপার ছাড়াও যেকোন বিষয়ে ওনার স্মরনাপন্ন হলে মাদ্রাসার উন্নয়নে সহযোহিতা মূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা স্কাউটস এর কমিশনার গাজীউল হক চৌধুরী বলেন, “ অভিষেক দাশ স্যার একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে তিনি খুব বেশি সময় দিয়েছেন। বিগত দিনের ইউএনও’দের চেয়ে স্যারের আন্তরিক সহযোগিতা বেশি পেয়েছি ”।
উপজেলার বিভিন্ন জনসাধারণের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এই ইউএনও স্যারের কছে কোন সমস্যার কথা জানালে তিনি সাথে সাথে সমাধান করে দিয়েছেন। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধনে বয়স সংশোধনের ব্যাপারে স্যারের অফিসে গেলে তা সহজভাবে করে দিয়েছেন ”।