অর্ধশতাধিক ড্রাগন বাগানের উৎসাহদাতা নাছিমা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

মহিউদ্দিন মোল্লা ।। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার। স্বামী মোহাম্মদ আলী প্রবাসে থাকতেন। তিনি টাকা পাঠিয়েছেন বাড়ি করতে। কিন্তু জমানো ১০লাখ টাকায় ড্রাগন ফলের বাগান করে বসেন। এনিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী মা-চাচিরা হাসাহাসি করেন। কেউ বলেন গাছের ডাল লাগিয়ে কি হবে। কেউ বলেন,এই টাকা লোকসান নিয়ে স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হবে। তোর সংসারটা ভাঙবে। ২০১৯সালে বাগান করা সেই নাছিমা বেগম এখন সেই ফলের স্নিগ্ধ রঙে রাঙিয়েছেন তার সংসার। সাথে রাঙিয়েছেন অনেকের জীবন। তার থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বাগান করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চাঁদসার গ্রাম। বাড়ির লাগোয়া ড্রাগন বাগান। ফলের রঙে বাগান রঙিন হয়ে উঠেছে। নাছিমা,তার স্বামী মোহাম্মদ আলী,তাদের আরো চারজন সহকারীসহ ড্রাগন কাটছেন। ড্রাগনে বালতি ভর্তি হলে পাশে ঘরে এনে রাখছেন। ঘর থেকে তাজা ড্রাগন কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। কেউ চান্দিনা সদর, কেউ এসেছেন কুমিল্লা নগরী থেকে। স্থানীয়রা বাগান থেকে খুচরা কিনে কেটে খাওয়া শুরু করেন। ফলের রঙে ক্রেতার হাত ও মুখ রঙিন হতে দেখা যায়।
নাছিমা বেগম বলেন,স্বামী প্রবাসে ছিলেন। কতদিন আর কাজ করতে পারবেন। তাই ভাবলাম স্থায়ী একটা আয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্বামীকে ফোনে জানালে তিনিও সায় দেন। নাটোর থেকে চারা সংগ্রহ করি। প্রথম ৮০ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ করি। খরচ হয় ১০লাখ টাকার মতো। প্রথম বছরে দেড়লাখ টাকার ফল পাই। ২য় বছরে পাই ৫লাখ টাকার ফল। ৩য় বছরে ৪০ শতকের আরো দুইটি জায়গা কিনে বাগান বৃদ্ধি করি। এছর ১২লাখ টাকা বিক্রি করি। পরবর্তীতে বাগান করতে তেমন খরচ লাগেনি। শুধু পিলারে খরচ হয়েছে। এখন প্রতি কেজি পাইকারি ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি করি। গতকালও ২০০ কেজি ফল বিক্রি করেছি।
তিনি বলেন,ড্রাগনের আয়ে পরিবারের খরচ,সন্তানের লেখাপড়া ও সঞ্চয় করতে পারছি। রোগ বালাই, সার প্রয়োগে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ পেয়েছি।
নাছিমার স্বামী মোহাম্মদ আলী বলেন,নাছিমা চান্দিনা,বরুড়া, বুড়িচং, কুমিল্লা সদর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ড্রাগন বাগান করায় পরামর্শ দিয়েছেন। ড্রাগনের আয়ে আমাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে।
চান্দিনার কাদুটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আহমেদ বলেন, নাছিমা বেগম দেখিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছে করলে নারীরাও এগিয়ে যেতে পরেন। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। তার দেখাদেখি অনেকে ড্রাগন চাষে এগিয়ে এসে সফল হয়েছেন।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুল হক রোমেল বলেন,নাছিমা বেগম চান্দিনার প্রথম ড্রাগন চাষি । তার দেখাদেখি মাইজখার ও হারংয়ে আরো দুইটি ড্রাগন বাগান হয়েছে। ড্রাগন চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তারা আগের থেকে কম দামে ফল কিনতে পারছেন। তার মতো অন্য নারীরাও ড্রাগন চাষে এগিয়ে এসে সফল হতে পারেন।