আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত শেষ সম্বল রক্ষায় দিশে হারা নাঙ্গলকোটের জসিম

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে
Exif_JPEG_420

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি : বিভিন্ন দপ্তর ও সমাজপতিদের নিকট বার বার ধর্ণা দিয়েও নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারছেননা নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের বাইয়ারা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে হতদরিদ্র জাসিম উদ্দিন। রাতের আধারে প্রভাবশালী লোকজন তার দোকান ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাইয়ারা-নাথের পেটুয়া সড়কের বাইয়ারা বাজারের বাইয়ারা মৌজার ১১০৮ ও ১১০৯ দাগে হতদরিদ্র জসিম উদ্দিনের ১টি দোকন ঘর রয়েছে। দোকান ঘরের পাশে ৯৯৬ বিএস দাগে তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে নেয়া সরকারী রাস্তা রয়েছে। ২০০১ সালে উক্ত বিএস ৯৯৬ দাগের রাস্তা বাদ দিয়ে তার মালিকানাধীন ১১০৮ ও ১১০৯ দাগের উপর দিয়ে জোর পূর্বক পাকা সড়ক নির্মাণ করে তৎকালীন সরকার। ২০১৯ সালে সওজ সড়কটি প্রশস্ত করার নামে জসিমের দোকান ঘর ভেঙ্গে নেয়ার জন্য ঠিকাদারের লোকজন মৌখিক ভাবে বলে। এনিয়ে তিনি ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর বিএস ৯৯৬ দাগের সরকারী রাস্তার জায়গা উদ্ধার করে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। সহকারী কমিশনার ভূমি জোড্ডা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। সে সময়ে সরকারী সার্ভেয়ার ভূমি পরিমাপ করে বিএস ৯৯৬ দাগেই সরকারী রাস্তার অবস্থান চিহিৃত করেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করলে সহকারী কমিশনার ভূমি রাস্তা দখলকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেন। সরকারী জায়গা উদ্ধার না হওয়ায় জসিম উদ্দিন আবারও ২০১৯সালের ২৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সুরাহা করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিয়াজীকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এতেও কোন সমাধান না পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর জসিম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলে জেলা প্রশাসক সরকারী রাস্তার জমি উদ্ধার করে দু’ পাশ থেকে সমান ভাবে রাস্তা প্রশস্তের কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সওজ’কে নির্দেশনা প্রদান করেন, যার স্মারক নং ১৩৭৬। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায়ও কোন সমাধান না হওয়ায় জসিম উদ্দিন ২০২২ সালের ২৫ জুলাই সিনিয়র সহকারী জজ আদালত কুমিল্লায় মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৪৮। আদালত শুনানীর জন্য আগামী ২৮ আগস্ট মামলার তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ১৬ আগস্ট গভীর রাতে সওজের ঠিকাদার বাবুল মিয়ার ম্যানেজার আবুল হোসেনের নেতৃত্বে তার লোকজন ১১০৮ ও ১১০৯ দাগে অবস্থিত জসিম উদ্দিনের দোকান ঘর ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। সম্পত্তি হারিয়ে ও সমাজপতিদের নিকট ধর্ণা দিয়েও শেষ রক্ষা না হওয়ায় জসিম উদ্দিন দিশেহারা। তিনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবী করছেন।