আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ দেশে এল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল চারটায় মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হবে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

১৯ মে ভোরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামের চৌধুরীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। তিনি একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি গ্রন্থকার ও কলাম লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।

গাফ্‌ফার চৌধুরী লন্ডন থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে দীর্ঘ বছর নিয়মিত কলাম লিখে গেছেন। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ঘটনার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখতেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে তাঁর কলম ছিল সোচ্চার। রাজনৈতিক ধারাভাষ্য আর সমকালীন বিষয়ের পাশাপাশি তিনি লিখে গেছেন অসংখ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, স্মৃতিকথা ও প্রবন্ধ।

অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী গাফ্‌ফার চৌধুরী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশেই শেষশয্যা নেবেন। আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ছিলেন চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাঁর মেয়ে বিনীতা চৌধুরী ৫০ বছর বয়সে গত ১৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

হাসপাতালে থেকেই মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছিলেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। বিনীতা চৌধুরী বাবার সঙ্গে লন্ডনের এজওয়ারের বাসায় থাকতেন এবং তাঁকে দেখাশোনা করতেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।