আশুগঞ্জ মোকামে বাড়ছে ধানের সরবরাহ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে ধীরে ধীরে বাড়ছে ধানের সরবরাহ। সরবরাহ বাড়ায় ধানের দাম কমতে থাকায় দাম কমেছে চালেরও। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ মোকামে প্রত্যেক জাতের ধানে মণ প্রতি দাম কমেছে ৭০-১০০ টাকা পর্যন্ত। আর চালের বস্তা এখন বিক্রি হচ্ছে পূর্বের চেয়ে ১০০-১২০ টাকা কমে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ঠিক থাকলে ধানের দাম যেমন আরও কমবে, তেমনি চালের বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক বছরের বেশী সময় ধরে আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর ভিওসি ঘাটে ধানের হাট বসছে। এটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকদের ধান কিনে আশুগঞ্জ মোকামে নিয়ে আসেন ব্যাপারীরা। এ সব ধান চলে যায় জেলার আড়াইশরও বেশি চালকলে। আর এখানকার চাল সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায়।

দিন দশেক- এর ব্যবধানে প্রত্যেক জাতের ধানে মণ প্রতি দাম কমেছে ৭০-১০০ টাকা এবং চালের বস্তায় দাম কমেছে ১০০-১২০ টাকা। মোকামে যোগান বাড়ায় এখন প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হচ্ছে। বর্তমানে মোকামে বিআর-২৮ জাতের ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১১৩০ টাকা, বিআর-২৯ বিক্রি হচ্ছে ১০৩০-১০৬০ টাকা দামে।
ধানের বিপরীতে চালের আড়ত থেকে বিআর-২৮ প্রতি বস্তা (৫০ কেজির বস্তা) চাল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৪৫০ টাকা আর বিআর-২৯ চালের প্রতি বস্তার পাইকারি দর ২৩৫০ টাকা।
তবে মোকামে এখন বিআর-২৮ ধানের চেয়ে বিআর-২৯ জাতের ধানের চাহিদাই বেশি।
মো. শফিক মিয়া নামে এক ধান ব্যাপারী জানান, তিনি ৫ বছর ধরে ধানের ব্যবসা করছেন। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে আশুগঞ্জ মোকামে নিয়ে আসেন। এখন মোকামে ধানের সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে দামও কমতে শুরু করেছে। মোকামে এখন বিআর-২৯ ধানের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলে।
আরেক ধান ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া জানান, সংকট কিছুটা কেটেছে সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে দামও কমতে শুরু করেছে। তবে মোকামে এখন যে মানের বিআর-২৮ ধান মিলছে, তা থেকে চাল কম হচ্ছে। সেজন্য বিআর-২৮ এর চেয়ে বিআর-২৯ এর বেচাকেনা বেশী হচ্ছে।

আশুগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল সিকদার বলেন, ধানের বাজার দর বেড়ে গেলে এর প্রভাব চালের বাজারেও পড়ে। বেশি দামে ধান কিনলে চালও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। এখন মোকামে ধানের সরবরাহ বাড়ছে। সেজন্য চালের দরও কমেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ধান ও চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া ধানের মোকাম ও চালের বাজারগুলো মনিটরিং করতে ১৬টি টিম গঠন করা হয়েছে।