কর্মস্থলেই মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

কর্মস্থলেই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কর্মস্থলেই অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান।

মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে।

তিনি ২১তম বিসিএস পাস করে ২০০৩ সালের ২১ মে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে স্থাস্থ্য অধিদফতরে যোগদান করেন তিনি। ২০২১ সালের ২৩ জুন তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্ববধায়ক হিসেবে যোগদান করেন।

জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের একটি মাসিক সভায় যোগ দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে যান। সভা শেষে করে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজের কর্মস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফিরে আসেন। পরে সেখানে নাস্তা করার পর ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেলে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যরা তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইসিইউ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে তিনটার দিকে তিনি মারা যান।

২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নার্সসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় বিরাট পরিবর্তন এনেছেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথা সময়ে কর্মস্থলে যোগদান এবং কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়ে এক প্রকার বাধ্য করেছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করেছেন। তার যোগদানের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত প্যাথলজি বিভাগ খোলা থাকত। কিন্তু তিনি সকালের পাশাপাশি বৈকালিক সেবা, বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাত আটটা পর্যন্ত প্যাথলজি বিভাগ চালু করেন। তার সময়ে হাসপাতালে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সেবার মানের দিক দিয়ে গত বছর সারা দেশে প্রথম হয়েছে এই হাসপাতাল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএমএ’র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাখার সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক নেতা মো. আবু সাঈদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আইসিইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে বেলা পৌনে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, এই আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা খুবই মর্মাহত। নিহেতর স্ত্রী, সন্তান ও ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। তারা আসার পর জানাজা ও লাশ দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আমার সঙ্গে সুস্থ শরিরের জেলা প্রশাসনের এক সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষ করে সুস্থ শরিরে কর্মস্থল হাসপাতালে ফিরে যান। সেখানে অসুস্থ হলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নীবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কিছু মৃত্যু খুবই কষ্টের ও বেদনার, যন্ত্রণার। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।