কর্মীদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করায় পদ দেয়ার ৭ দিনের মধ্যেই পদ কেড়ে নিল বিএনপি হাই কমান্ড

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি :
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রথম আহ্বায়ক কমিটি গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই আহ্বায়ক মো. আমিরুজ্জামান আমিরকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ পদে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শওকত আলী বকুল।
মঙ্গলবার(৭ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমিরুজ্জামান আমীরকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী উল্লেখ করেন। অব্যাহতি প্রাপ্ত আমীরুজ্জামান আমীর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি।
অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে আমিরুজ্জামান আমির বলেন, আমি দলের কাছে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত বা মৌখিক আবেদন করিনি। সংবাদ সম্মেলন করে নেতাকর্মীদের পদ নিয়ে তাদের মনের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছি। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে পদত্যাগের কথা বলেছি। কিন্তু কোন ভাবেই দলের কোন পর্যায়ে বলিনি যে, আমি পদত্যাগ করছি। এতেই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এর আগে, গত ৩০ মে আমিরুজ্জামান আমিরকে আহ্বায়ক এবং ইউসুফ মোল্লা টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট কুমিল্লা মহানগর বিএনপির প্রথম কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় কমিটি ঘোষণার পর পরই রাতে সংবাদ সম্মেলন করে আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আমিরুজ্জামান আমির।
এদিকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে সরকারী দলের হামলা ও পুলিশের মামলায় ঘর ছাড়া – বাড়ি ছাড়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা কাঙ্খিত পদ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে পদবঞ্চিতদের।
এ দিকে, কুমিল্লার পর্যবেক্ষক মহলের কুমিল্লা মহানগর ও জেলা দক্ষিনের এ কমিটিকে ছেলে খেলার কমিটি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, কুমিল্লার মত এক অগ্রসরমান জেলা শহর ও মহানগরে এ ধরনের কমিটি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ জেলা দক্ষিণ আওয়ামীলীগ ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ দুটি পদের সাথে বিএনপির এই দুই কমিটির শীর্ষ দুটি পদের ( একজন ছাড়া) নেতৃবৃন্দদের পারস্পারিক তুলনা করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে বলে তারা মনে করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, এবারের জেলা দক্ষিন ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি দেখলে (মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন সিনিয়র ছাড়া ) বুঝার উপায় নেই এটা বিএনপির কমিটি না কি যুব দলের কমিটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ও শহর বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী নেতা ( এক সময় যারা যুব দল ও ছাত্র দলেরও নেতা ছিলেন) এ প্রতিবেদককে দু:খ করে বলেন, সারা জীবন বিএনপির রাজনীতি করলাম কিন্তু শেষ বয়সে এসে জেলা কিংবা নগরের আহবায়ক কমিটির নূন্যতম সদস্যও হতে পারলাম না। এই কমিটি কুমিল্লার বিএনপিকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য পিছিয়ে দিবে বলে এই দুই নেতা মনে করেন।