কর বিল খেলাপীদের কাছে পাওনা পৌনে ২২ কোটি টাকা : শিগগিরই বাড়ি বাড়ি অভিযান শুরু করব -প্রধান নির্বাহী

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন
শাহাজাদা এমরান
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

#মোট হোল্ডিং সংখ্যা ৪৮,৪২৭
# মোট বিল খেলাপী ১৮,৬৫০ জন
# শীর্ষ ১৩ বিল খেলাপীর কাছে পাওনা পোনে ৪৩ লক্ষ টাকা
# সর্বোচ্চ বিল খেলাপী মনোহরপুরের আবদুর রহিম
# বিল খেলাপীদের ধরতে শিগগিরই বাড়ি বাড়ি অভিযান শুরু করব -প্রধান নির্বাহী

করের বিল খেলাপীদের ভারে নূহ্য হয়ে আছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। এ খাতেই কুসিক তার নাগরিকদেরর কাছে পাওনা প্রায় পোনে ২২ কোটি টাকা। বকেয়া কর আদায়ে কুসিক বার বার নোটিশ দিয়েও বিল খেলাপীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারছে না। কুমিল্লা নগরীতে বর্তমানে মোট ১৮,৬৫০জন কর বিল খেলাপী রয়েছে। এই বিল আদায়ে কুসিকের পক্ষ থেকে শিগগিরই বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র জানিয়েছেন, কুমিল্লা সিটির প্রধান আয়ের খাত হচ্ছে নাগরিকদের কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়। বর্তমানে নগরীতে ৪৮ হাজার ৪২৭টি হোল্ডিং নাম্বার রয়েছে। ১৯৯৫ সালে থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই সময়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন তার নাগরিকদের কাছ থেকে ২১ কোটি ৬১ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৮০ টাকা হোল্ডিং টেক্সের বিল বাবদ পাওনা রয়েছে।

সূত্র আরো জানায় , কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন পুরাতন ১৮টি ওয়ার্ড এর শীর্ষ বিল খেলাপীদের একটি তালিকা করেছে। এর মধ্যে নগরীর ১নং ওয়ার্ডে রয়েছে ১২জন, ২ নং ওয়ার্ডে ১১জন, ৩ নং ওয়ার্ডে ১৯ জন, ৪নং ওয়ার্ডে ১৭ জন, ৫নং ওয়ার্ডে ১৫ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ৮ জন, ৭নং ওয়ার্ডে ১৩ জন, ৮নং ওয়ার্ডে ৮জন, ৯নং ওয়ার্ডে ১২জন, ১০নং ওয়ার্ডে ১২জন, ১১নং ওয়ার্ডে ২০জন, ১২নং ওয়ার্ডে ১৩ জন, ১৩ নং ওয়ার্ডে ২৩জন, ১৪ নং ওয়ার্ডে ১৪জন, ১৫ নং ওয়ার্ডে ১৬ জন, ১৬ নং ওয়ার্ডে ১৪ জন, ১৭ নং ওয়ার্ডে ১৫ জন এবং ১৮ নং ওয়ার্ডে ১৫জনসহ ২৫৭ জন বিল খেলাপীর একটি টপ লিষ্ট করেছে। তবে সদর দক্ষিনের ৯টি ওয়ার্ডে খুব বেশী বকেয়া নেই বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন থেকে বিশ^স্ত সূত্রে পাওয়া তালিকা ঘেটে দেখা যায়, এক লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বকেয়া আছে এমন খেলাপীর সংখ্যা হলো ৫০ জন। এর মধ্যে নগরীর ৩নং ওয়ার্ডেরই ১০জন খেলাপী রয়েছে যাদের প্রত্যেকের বাসাই রেইসকোর্সে। বিল খেলাপীর এই সংখ্যার দিকে থেকে নগরীর ৪,৫ও ৬নং ওয়ার্ডে রয়েছে ৪জন করে, ৭নং ওয়ার্ডে ১জন, ৮নং ওয়ার্ডে ৫জন, ৯,১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডে রয়েছে ৬জন করে, ১২নং ওয়ার্ডে ৩ জন এবং ১৩নং ওয়ার্ডে রয়েছে ১জন ।

শীর্ষ ১৩ বিল খেলাপী যারা : কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে ১৩জন শীর্ষ কর বিল খেলাপী রয়েছে। যাদের সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বার বার তাগাদা দেওয়ার পরেও যারা বিল পরিশোধ করেনি। এই ১৩ জনের কাছ থেকে কুসিক পাবে ৪২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯৩৯ টাকা। বিল খেলাপীদের মধ্যে সর্ব শীর্ষে রয়েছে ১১নং ওয়ার্ডের মনোহরপুরের আবদুর রহিম । তার কাছে কুসিক পাবে ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৬২৫ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ৯নং ওয়ার্ডের বাগিচাগাঁওয়ের শুবা মিয়া। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৬০ টাকা। ৩য়, ৮নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয় কান্দিরপাড় এলাকার কাজী মনিরুজ্জামান। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। ৪র্থ ১০নং ওয়ার্ডের প্রথম কান্দিরপাড় এলাকার বাহা উদ্দিন রেজা বীর প্রতীক। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৪৭ টাকা। ৫ম, ৯নং ওয়ার্ডের বাঁগিচাগাও এলাকার আক্তার হোসেন গং । তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৫০ টাকা। ৬ষ্ট , ৮নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয় কান্দিরপাড় এলাকার মোসাম্মত ফারজানা তাহের। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ৩ লক্ষ ৯ হাজার ৬০ টাকা। ৭ম, ৩নং ওয়ার্ডের রেইসকোর্স এলাকার মোশারফ হোসেন। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৭০ টাকা। ৮ম,৫নং ওয়ার্ডের রাজগঞ্জ এলাকার সোহেল মাহমুদ গং। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৩৭ টাকা। ৯ম,১১নং ওয়ার্ডের মনোহরপুর এলাকার ইউ সি ভট্রাচার্য্য দ: ইসলামিয়া ফুলার হোষ্টেল । তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭০০ টাকা। ১০ম, ৯নং ওয়ার্ডের বাগিচাগাও এলাকার আবদুল মান্নান। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৪১ হাজার ৬০ টাকা। ১১তম, ৫নং ওয়ার্ডের গাংচর এলাকার সৈয়দ জাহানারা বেগম। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৫২০ টাকা। ১২তম, ৮নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয় কান্দিরপাড় এলাকার মজিবুর রহমান। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ৮ হাজার ২৫০ টাকা। এবং ১৩তম শীর্ষ কর বিল খেলাপী হলো , ৯নং ওয়ার্ডের কাজী তাহমিনা মন্নান। তার কাছ থেকে কুসিক পাবে ২ লক্ষ ১ হাজার ৭৯০ টাকা।

কুসিকের কর বিল এত বেশী পরিমাণ বকেয়া কেন জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রত্যেক বিল খেলাপীকে প্রথমে নোটিশ দেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে লাল নোটিশ দেই। এরপরেও যখন আমাদের বিল খেলাপী নাগরিকগণ সচেতন হইনি তাই এখন আমাদের বাসায় বাসায় গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। বাসায় অভিযান চালানোর সময় টাকা না দিলে আমরা মালামালও ক্রোক করতে পারি। আইন আমাদের এই ক্ষমতাও দিয়েছে।

উপ সচিব মর্যাদা প্রাপ্ত কুসিক নির্বাহী কর্মকর্তা দু:খ করে বলেন, আমাদের নাগরিকগণ ইউরোপ আমেরিকার মত নাগরিক সুবিধা পেতে চায়, অথচ কর দিবে না এটা তো হতে পারে না। কারণ, আমাদের মনে রাখতে হবে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান আয় হলো হোল্ডিং ট্যাক্স। সম্মানিত নাগরিকগণ যদি সময় মত ট্যাক্স না দেন তাহলে আমরা সেবা দিব কিভাবে। তিনি অবিলম্বে যাদের করের বিল বকেয়া আছে তাদেরকে পরিশোধ করার আহবান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আমরা বিল আদায়ে কঠোর হতে বাধ্য হবো। আমরা খুব দ্রুতই কর আদায়ে বাড়ি বাড়ি অভিযান শুরু করব।