কালীগঞ্জে পরীক্ষার হলে ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক লাইভ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

আমাদের পরীক্ষা চলছে। সবাই লিখছে আমি বসে আছি। আমি তো বাংলায় লিখিনি। সব ইংরেজিতে। আমি লিখেছি গ্রুপ কি তা আনার গ্রুপ। আমার নেতার নাম দিয়ে দিছি। এভাবেই পরীক্ষার হলে লাইভে কথা বলছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন। পরীক্ষার হল থেকে লাইভ দেওয়া ও হাসাহাসি করার ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন তিনি। তবে লাইভ দেওয়া কিছুক্ষণ পরই ভিডিওটি তিনি ডিলিট করে দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সময় ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি লাইভ করেন তিনি। এরপর ফেসবুকে লাইভটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

লাইভে তিনি বলেন, আমার খাতায় আমি লিখেছি। ইংরেজিতে মাস্টার্স করা তো। দেখেন সব ইংরেজিতে লিখেছি। সালামও লিখেছে। ওরাও লিখেছে বলে অন্য শিক্ষার্থীকে দেখিয়ে বলে কি লিখিছিস তুই মনি? ওই একটা খালা পরীক্ষা দিচ্ছে ওই পাশে। ওই যে একটা খালা। ভাইস চেয়ারম্যান দেখছে লাইভ। কাকা আমরা সত্যি সত্যি পরীক্ষা দিচ্ছি। এরপর ফোনের ক্যামেরা খাতার দিকে ঘুরিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। আমরা ইয়ার্কি মাচ্ছিনে। আমাদের কম্পিউটার সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আমরা আছি ঝিনাইদহ পলিটেকনিক কলেজে। অন্য শিক্ষার্থীকে উদ্দেশে করে বলেন গল্প না করে লেখ বাবা। লাইভে তিনি আরো বলেন, কাকা আমার লেখা কম্পিলিট। এই দেখেন আমি ইংরেজিতে কি সুন্দর লিখেছি। আমার বায়োডাটা লিখেছি। এই দেখেন গ্রুপের এখানে এমপি সাহেবের নাম লিখে দিয়েছি। গ্রুপ কি? আনার গ্রুপ। জয়ও লিখেছে। ভাইস চেয়ারম্যান লেখছে গল্প না করে লেখ। লাইভে কক্ষ পরিদর্শকের দিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে তিনি বলেন, ও আপা, ম্যাডাম আপনি কিছু কন? অন্য শিক্ষার্থীদের বলেন আমি তোমাদের স্যার। লেখো লেখো। এ সময় আশপাশের শিক্ষার্থীরা হাসতে থাকে। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি প্লাস পেয়ে যায়। আমরা যেখানেই যাবো সেখানেই বুলেট। স্যার আমার ঘুমোচ্ছে।

ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদকের লাইভে পাশ থেকে কবিতা লিখতে বললে তিনি আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যায় কবিতাটি বলতে থাকেন। রোজা রইছি না হলে স্যারেগের কাছে পানি-মানি খাতি চাতাম। তুই কি লিখিছিস ভাই? আমরা তো সবাই এক গোয়ালেরই গরু তাই না? সমস্যা নেই। লাইভে সুমন বলেন, কি সুন্দর পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিচ্ছি। ও বাবু আয়। তোরা তো জীবনে পরীক্ষা দিতি পারবিনে। সবুজের মতো ঘুমো। এ তাপস। রোজা থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি। গোল্ডেন পাবো গোল্ডেন। এই দেখ সালামও আছে সালাম। আমরা যাই করি তাই করি সাইত্রিশ ঠিক আছে। এরপর তিনি তার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন বলেন, তিনি প্রিজম কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী। ওই সময় তিনি পরীক্ষা দিয়ে ভাইভার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরীক্ষার সময় লাইভ করেননি। ছোট একটি লাইভ করেছিলেন। এরপর সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন। ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ইনচার্জ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার হলে ফোনই নিয়ে যাওয়া অনুচিত। তারপরও লাইভ দেওয়ার ঘটনা ঘটলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ইনচার্জ মাহবুব উল ইসলাম। তিনি জানান, পরীক্ষার হলে ফেসবুকে লাইভ দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরীক্ষার হলে কে কোন সংগঠনের নেতা এটা আসল পরিচয় নয়। সবাই শিক্ষার্থী হিসাবে গণ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার জানান, একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এটা করতে পারে না। তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।