কিরে সবুজ , যাবি তো যাবি কিন্তু তোর এত তাড়া কেন ছিল ভাই – শাহাজাদা এমরান

শোকাহত আমরা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

কত বকেছি তোকে। কুমিল্লা শহরের কোন অনুষ্ঠানে দেখলেই বকা দিতাম। বলতাম, তোর জীবনের লক্ষ ঠিক কর। ক্যামেরা নিয়ে ঘুরলে হবে না। হাসি দিয়ে বলতি , ভাই,দোয়া করবেন। আপনার মত আর কেউ শাসন করে না।

অনেক যুদ্ধ করে তাকে প্রথমে দিনকাল পরবর্তী পর্যায়ে কুবির মানবকন্ঠ প্রতিনিধি করি। আমাদের কুমিল্লায় কাজ করার খুব ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতায় তাকে সুযোগ দিতে পারিনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রতিনিধিরা কোন নিউজ মিস করলেই সবুজকে কল দিতাম। সহযোগিতা নিতাম। হাসি মুখে সহযোগিতা করত।

কুবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অসংখ্য সাংবাদিক এসেছে। কেউ পড়াশুনা শেষ করে ইতিমধ্যে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে , আবার কেউ এখনো পড়াশুনা করছে। প্রায় সবার সাথেই আমার সু সম্পর্ক ছিল এবং আছে । কিন্তু কাউকেই তুই করে বলা হয়নি। এখনো কাউকে তুই বলিনি। কিন্তু নাজমুল সবুজকে পরিচয়ের কিছুদিন পর থেকেই তুমি থেকে তুই বলা শুরু করেছি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাই ছিল।

কিছু দিন আগে স্নেহের সাংবাদিক আবু মুসা পরিবেশের উপর মাইটিভিতে আমার বক্তব্য নেয়ার জন্য সবুজসহ আরেকজন ফটো সাংবাদিককে পাঠায়। এই মুহুর্তে নামটা মনে আসছে না। সেদিন সবুজকে অনেক বকেছি। বলেছি, টিভিতে কাজ করতে চাইলে ঢাকায় যা ।এভাবে ক্যামেরাম্যান হয়ে কেন থাকবি। আমার অনাধিকার চর্চার শাসনকে অভিভাবকের শাসন হিসেবে মেনে নিয়েছে প্রিয় সবুজ।

অত্যান্ত নম্র,ভদ্র,বিনয়ী সজ্জ্বন ছেলে ছিল সবুজ। বয়স কতই বা হবে। ২৫ বছর। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিল সে। পড়াশুনা শেষ করে সাংবাদিকতা করত। খুব ভালো নিউজ করত। নিউজের জ্ঞান ছিল ভালো ।

২৯ নভেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টায় আমাদের শোকের সায়রে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় সবুজ। । ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন।

সবুজ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ফুসফুসের সমস্যায় ভোগে। তা জানতাম না। সে কখনো বলেনি।

নাজমুল সবুজের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, সবুজ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তার ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। এদেশে অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত দু’সপ্তাহ আগে তাকে ভারতে পাঠাই। সেখান থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে আসে সবুজ। আমার এক আত্মীয় বাসায় উঠে। ভাত খেয়ে ঘুমাতে গেলে রাত সাড়ে ১১ টায় বমি শুরু করে। তার কিছুক্ষণ পরেই সবুজ মারা যায় বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন সন্তান হারা বাবা আনোয়ার হোসেন।

সবুজের মত মেধাবী ছেলেরা এত অল্প বয়সে চলে যাবে তা আমি মানতে পারছি না। মেনে নেওয়া সম্ভবও না। বাবা-মা’র দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সবুজ ছিল সবার ছোট,অনেক আদরের। হতভাগ্য পিতা সেই আদরের একমাত্র ছেলের লাশই আজ তুলে নিলেন কাঁধে।

আহা ! শিশু শ্রেণী থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ছেলেকে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে পড়ালেন। পড়া শেষও করলেন সবেমাত্র। যোগ দিবেন কর্ম জীবনে। তার আগেই চলে গেলেন পরজীবনে। যে জীবন থেকে আর ফিরবে না

আদরের সবুজ। ভালো থাকিস, ছোট ভাই ওপারে। এভাবে না বলে চলে যাবি জানতাম না রে সবুজ। পারলে ক্ষমা করে দিস। তোর মত আর কোন বাবা মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয় মহান আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি। সাথে প্রার্থনা করি প্রভু যেন তোকে জান্নাত দান করেন ।

লেখক : সাংবাদিক , সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক