কুবিতে ময়লার স্তুপে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অযত্নে-অবহেলায় ময়লার স্তুপে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি পড়ে থাকার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ এপ্রিল) একাডেমিক বিল্ডিং-১ (কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) এর সিড়ির নিচে পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ও কাগজপত্রসহ জমে থাকা ময়লার স্তুপে ছবি দু’টি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে থাকে রেজিস্ট্রার দফতরের এস্টেট শাখা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই দফতর সকালেই কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সিঁড়ির নিচে পরিষ্কার করার জন্য লোক পাঠায়। বেলা ১১ টার দিকে কাজ শেষ করে তারা চলে আসার পর অনুষদের কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখতে পান। ছবি দু’টি ময়লার স্তুপে পড়ে থাকতে দেখে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে জানালে ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কে বা কারা ছবিগুলো এখানে রেখে গেছেন জানে না কেউই।

কাজ শেষ করে আসার সময় এস্টেট শাখার কর্মচারীরা সিঁড়ির নিচে কোনো ছবি দেখতে পাননি বলে দাবি করে ওই শাখার সেকশন অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলম খান। তিনি বলেন, কর্মচারীরা যখন ওই স্থানটি পরিষ্কার করছিল, তখন তারা কেউ ছবি দু’টি দেখেনি। পরে ডিন স্যারের মাধ্যমে জানতে পারি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পড়ে আছে সেখানে। স্যারের কথায় ছবিগুলো আমি নিজের হেফাজতে নিয়ে আসি। তবে কাজ করার সময় আমরা কোন ছবি পাইনি।

এদিকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।শাখা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে ময়লার স্তুপে পড়ে থাকাটা অবমাননাকর। কে বা কারা ছবিগুলো রেখেছে সেটা দ্রুত খুঁজে বের অপরাধীদেএ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, অনুষদের সিঁড়ির নিচের জায়গায় অনেকদিন ধরে পুরাতন জিনিসপত্র পড়ে থাকায় এস্টেট শাখাকে পরিষ্কার করতে বলি। সকালে তারা গিয়ে পরিষ্কার করেন। এসময় কেউ যদি ছবি দেখতে পায় তাহলে তাদের সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। পরে আমি জানতে পারি সেখানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পড়ে আছে। সাথে সাথে এস্টেট শাখাকে বলে ছবিগুলো সরিয়ে নিই। তবে কে বা কারা রাখছে সেটা আমি বলতে পারছিনা।

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে যারা পরিষ্কার করেছে তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা সেসময় ছবিগুলো দেখতে পাননি বলে জানিয়েছে। তবে আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কে বা কারা ছবিগুলো রেখে গেছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত হবো। তারপরে তদন্ত সাক্ষেপে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।