কুমিলায় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে , ঈদ উৎসবের আমেজ নেতাকর্মীদের মধ্যে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লায় বিএনপি’র বিভাগীয় গনসমাবেশের বাকি আর মাত্র চার দিন। আর এই সমাবেশ উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে নগরীর টাউন হল মাঠ পর্যন্ত যেন ব্যানার, পোস্টার আর ফেস্টুনের উৎসব চলছে। উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে সারা নগরীসহ গোটা জেলা কুমিল্লায়। নেতাকর্মীরা ঈদ উৎসবের আমেজের মতো ভোর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য, দেশের অন্য বিভাগের চাইতে কুমিল্লায় বেশী সমাগম দেখিয়ে প্রমান করা কুমিল্লার মাটি বিএনপির ঘাঁটি। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের নেতৃত্বে জেলা ও মহানগরের সবাই একাট্রা হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাজী জসিম উদ্দিন ভিপি।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ, ভবনের দেয়াল আর ল্যাম্পপোস্টের লাগানো হচ্ছে ব্যানার। রঙ-বেরঙের এসব ফেস্টুন ব্যানারে শোভা পাচ্ছে দলের কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দাবির কথা। গনসমাবেশের সফলতা কামনা করেও টানানো হয়েছে অসংখ্য পোস্টার হচ্ছে। এছাড়া শেষ মুহূর্তে নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরন ও গনসযোগ করছেন।
সোমবার (২১ নভেম্বর) সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, টাউন হল মাঠে চলছে ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর কাজ। বিএনপি’র চেয়্যারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্তি দাবি করে পোস্টার লাগাচ্ছে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া চলছে মাঠের মঞ্চ বানানো প্রস্তুতি কাজ। সকালে নগরীর টাউন হল মাঠ পরিদর্শন করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন।
এছাড়া একই সময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন সর্বশেষ কুসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ও তরুণ বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।
তবে নগরবাসী বলছে, নগরীতে এত বেশি পোস্টার-ব্যানার গত এক দশকে দেখা যায়নি। ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন টাঙ্গাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপি ছাত্রদল সভাপতি রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘নতুন উদ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং সমাবেশস্থলে ব্যানার টাঙ্গিয়েছি’। আমরা এ সমাবেশ সফল করতে ছাত্রদল দিনরাত মাঠে কাজ করছি।
কুমিল্লায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাদিমুর রহমান শিশির বলেন, “আমাদের কুমিল্লায় বিভাগের সকল ইউনিটে নেতাকর্মীরা,ব্যানার-ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চান, এটা তো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অংশ হয়ে উঠেছে।” “আসলে এই সমাবেশ দলের নেতা-কর্মীদের জন্য একটি উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।” আশা করি কুমিল্লা বিভাগীয় সমাবেশ কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় বৃহত্তর সমাবেশ হবে।
কুমিলায় দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাজী আনোরুল হক বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্রে করে নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উৎসব দেখা দিয়েছে।এই সমাবেশ হবে আগের সকল সমাবেশ থেকে বৃহত্তম সমাবেশ। কাল থেকে নেতাকর্মীরা টাউন হল মাঠে অবস্থা করবে।
নগরীর ফয়সাল নামের পথচারী বলেন, আমরা শহরের রাজপথে বিএনপির ব্যানার-পোস্টার দেখছি এবং দেখে আমাদের কাছে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে মনে হয়েছে। “আমরা আশা করি আগামী দিনগুলো দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য শান্তিপূর্ণ হবে।”
এদিকে বিভাগীয় শহর কুমিল্লা নগরীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের দিন যতোই এগিয়ে আসছে ততোই নগরীসহ গোটা জেলা, উপজেলা, পৌর এলাকা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল উত্যপ্ত হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ দাউদকান্দি উপজেলা গনসমাবেশের লিফলেট বিতরন করা এক নেতা কর্মীর উপর হামলা করে আহত করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ।এছাড়া বি- বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরে লিফলেট বিতরণকালে এক যুবদল নেতাকে আহত করা হয়, পরে হাসপাতালে নেয়া হলে যুবদল নেতা শাকিল মৃত্যু হয়।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ রয়েছে, নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা চালানো হচ্ছে।
কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, বিএনপি তাদের সমাবেশ করবে, আমরা তাতে বাঁধা দেবোনা। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে আমার তাদের প্রতিরোধ করবো বলে হুঁশিয়ারি দেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহবায়ক উৎবাতুল বারী আবু বলেন, কুমিল্লা বিভাগের জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন ২৬ নভেম্বর এর শুভ দিন আসবে। যেদিন দেশনেত্রীর মুক্তির দাবী নিয়ে আমরা কুমিল্লা টাউন হলে যাব।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন , হঠাৎ করে মিছিল, সমাবেশ ও হামলার ঘটনা বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ বাঁধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি চক্রান্ত। আওয়ামী লীগ কোনোভাবে আমাদের আটকাতে না পেরে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এসব করে কোনো লাভ হবেনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২৬ নভেম্বরের গণসমাবেশ হবে স্মরণকালের সবচেয়ে বড়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা বিএনপির সবাবেশে আমরা অনুমতি পেয়েছি। তবে রাতেবেলা আমাদের নেতাকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে কে বা কারা নেতাকর্মীদের দুমকি হুমকি দিচ্ছেন। এগুলো করে সমাবেশ আটকানো যাবেনা পরিবহন ধর্মঘট দিলে কোনো লাভ হবে না,কর্মীরা কোনো বাঁধাই মনে করছেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো বাঁধাই বিএনপির নেতাকর্মীদের রুখতে পারবে না।