কুমিল্লার ঈদ বাজার : গরীবের সুপার শপ যখন ফুটপাতে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

#  ঈদ পর্যন্ত ফুটপাতে বসার সুযোগ চান ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা

সাইমুম ইসলাম অপি।।
পছন্দের পোশাক কম দামে কেনার সবচেয়ে সুন্দর প্ল্যাটফর্ম রাস্তার পাশের ফুটপাত। সবাই যাকে বলে গরীবের সুপার-শপ। নিম্নবিত্ত মানুষের পোশাক পছন্দের সেরা ঠিকানা ফুটপাত। কম টাকায় যেখানে নিজের ও পরিবারের চাহিদা মেটানো যায় অনায়াসেই। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারিতে পোশাক কিনে পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন কুমিল্লা নগরীর ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। সারা বছরই তারা এই একটি মাসের আশায় থাকেন।
বড় বড় সুপার শপের অগ্নিঝড়া মূল্যের কারনে নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষগুলো স্বল্প খরচে পছন্দের পোশাক কিনে ফুটপাত থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার রোজার পঞ্চম দিন অতিবাহিত হলেও এখনো গরীবের ঈদ বাজার জমে উঠেনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা । তবে তাদের আশা ১০ রোজার পর থেকেই জমে উঠবে তাদের ব্যবসা।

পুলিশ প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের ভয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মাঝে থাকতে হয় নগরীর ফুটপাত ব্যবসায়ীদের। গত দু’বছর করোনার কারনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থের স্বীকার হয়েছে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। এবার প্রত্যাশা ভালো বিক্রির ,যদি প্রশাসন সহায় হয়।

স্বল্প দামে ফুটপাত থেকে কেনা যায় পছন্দের পোশাক। ফুটপাতে পোশাকের দাম প্রতি পিস টি-শার্ট ১০০-১৫০ টাকা, শার্ট ১৫০-২০০ টাকা, প্যান্ট ২০০-৩০০ টাকা, থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ১০০-২০০ টাকা এবং বাচ্চাদের পোশাক ২০-১৫০ টাকা।

ফুটপাত থেকে পোশাক কিনতে আসা চান্দিনার রাসেল বলেন, আমরা ভাই দিন মজুর। বড় বড় মার্কেট আমাদের জন্য না। কান্দিরপাড়ের এই ফুটপাতই আমাদের ইষ্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা।
নগরীর ছাতিপট্রি ফুটপাত থেকে বাচ্চার জন্য জামা ও প্যান্ট কিনতে আসা শাকতলার বাসিন্দা ইপিজেড কর্মী ফারজানা লিপি বলেন, কম দামে এখান থেকে ভালো পোশাক কিনতে পারি। আমাদের আয় যেমন ব্যয়ও তেমন। তাই বড় মার্কেটের দিকে চেয়ে আমাদের লাভ নেই। এই ফুটপাতই আমাদের সুপার শপ।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলমান াকে আমাদের বেচাকেনা। রোজার কারনে শুরু হয়নি জনসমাগম তবে শীগ্রই বাড়বে ঈদের বেচাকেনা। ২০ রোজার পর আমাদের বিক্রি সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে আশা করি।

ফুটপাত ব্যবসায়ী ইকবাল বলেন, করোনার কারনে গত দু’বছর দোকান বন্ধ ছিল। এতদিন গরু বিক্রি করে বাসায় বসে খেয়েছি। ঋণ করতে করতে খুবই খারাপ অবস্থা। করোনার পর ভেবেছিলাম ভালো বিক্রি করবো কিন্তু তাও পারছি না প্রশাসনের কারনে। প্রশাসনের কারনে আতঙ্কের মধ্যে বেচাকেনা করতে হয়।

আরেক ফুটপাত ব্যবসায়ী মঈনউদ্দীন বলেন, আজ বিক্রি খুবই খারাপ। মানুষ এখনও বের হয়নি। আশা করি কয়েকদিন গেলে ঈদের বেচাকেনা শুরু হবে। ঈদের স্পেশাল কালেকশান আছে কিনা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ঈদের কোনো আলাদা পোশাক আমরা আনি না। রেগুলার পোশাকগুলোই আমরা বিক্রি করি।

কান্দিরপাড়ের ফুটপাত ব্যবসায়ী ইমরান বলেন, বেচাকেনা কি করবো উঠা বসার মধ্যে আছি। কখনো প্রশাসন আবার কখনো সিটি কর্পোরেশন। জেলখানায় প্রায়ই যাওয়া হয়। সকালে গেলে রাতে খেয়ে দেয়ে চলে আসি। আর্থিকভাবে দুর্বলদের কেউ সহায়তা করে না। নদীর পাড়ে বাড়ি থাকলে সর্বদাই বিপদ।

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, বেচাকেনা প্রশাসনের হাতে। তারা সুযোগ দিলে বিক্রি করতে পারবো না হলে বিক্রি বন্ধ। সংসার চালানোর মতো উপার্জন হয় না। মানুষের কাছে টাকা কম, বিক্রি আল্লাহর হাতে। আশা করছি এবার ভালো হবে। তবে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের দু’বছরের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।

নগরীর কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দৈনিক আমাদের কুমিল্লার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও কুমিল্লার ৬ আসনের সাংসদ হাজী আকম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি’র কাছে অনুরোধ করেছেন , আসন্ন ঈদ উপলক্ষে তাদের যেন কেবল বেচাকেনা করার মত একটি সুনির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়। না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে তাদের জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।