কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের বসন্তিপুর গ্রামে সম্পত্তি বিরোধ ও মাদক–সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মা ও ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মৃত আজগর আলীর বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা রাহেলা বেগম (৬০) ও ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)–এর মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী পলাতক রয়েছে। এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
পরিবারের বিরোধ ও হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসন্তিপুর গ্রামের মৃত আজগর আলীর তিন ছেলে বিল্লাল, জামাল ও কামাল। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই বিল্লাল জোর পূর্বক জমি দখল করে রাখে। ছোট ভাইদের ভাগ দাবি করলে পরিবারে নিয়মিত ঝগড়া হতো। এ ছাড়া বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে।
রোববার রাতে মাদক চালান নিয়ে ফেরার সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিল্লাল পালিয়ে আসে। পরে তার স্ত্রী বিল্লালকে জানায়, পুলিশের কাছে মাদকের তথ্য দিয়েছে ছোট ভাই কামাল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিল্লাল সোমবার সকালে ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালাতে গেলে মা রাহেলা বেগম বাধা দেন। তখন বিল্লাল প্রথমে কামালকে ছুরিকাঘাত করে এবং পরে তার গলায় ছুরি চালালে ঘটনাস্থলেই কামাল মারা যায়। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিল্লাল মায়ের গায়েও ছুরি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাহেলা বেগমের মেয়ে জানান, আমার তিন ভাইয়ের সম্পত্তিতে শুধু বড় ভাই বিল্লাল একা দখল করতে চায়৷ ঘর করার সময়েও নানা ভাবে বাফহা দেয় এবং ঝগড়া করে। ছোট ভাই বিদেশ থেকে আসার পর বিল্লালকে মাদক থেকে বিরত থাকতে বলায় সে ঝগড়া করে। আজকে সে মাদক চালান দিতে গিয়ে বাধা পাইলে রাগ হয়ে ছোট ভাইয়ের উপর আক্রমণ করতে আসলে আমার মা বাধা দিতে আসে। তাই সে আমার মা ও ছোট ভাইকে খুন করে।
স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম জানান, সকালে জমি ও মাদক চালান আটকের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিল্লাল রাগের বশে প্রথমে মাকে ছুরিকাঘাত করে। বাধা দিতে গেলে ছোট ভাইকেও হত্যা করে।
বসন্তিপুর গ্রামের মো. জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি বিল্লাল মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল। ভোরে সে মা ও ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বিল্লাল একজন মাদক ব্যবসায়ী, আর নিহত কামাল সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বিল্লালকে নিষেধ করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ঘাতক বিল্লাল হোসেনকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে