কুমিল্লার সদর দক্ষিণে জোরপূর্বক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ # জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিকার দাবী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের জগপুর গ্রামের প্রাইমারী স্কুল পাশের ৩৭ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাশের গ্রামের প্রভাবশালী শহিদুল হক ও তার ভাই তাজু ইসলাম ও চাচা আবু হাশেমে বিরুদ্ধে। সৌদী আরব প্রবাসী কামাল হোসেনের বাবা এই জমি ৩৭ বছর আগে কেনেন সাবেক এমপি রাবেয়া চৌধুরীর স্বামী প্রয়াত অনারী ম্যাজিষ্ট্রেট নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে। অথচ আজ সেই জমিই জোড় পূর্বক দখলের চেষ্টা করছে এ কথা সাংবাদিকদের কাছে বলেই কেঁদে দিলেন ভুক্তভোগী কামাল হোসেন। তিনি এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের কাছে প্রতিকার চান।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে উপজেলার পশ্চিম জোড়কনন ইউনিয়নের বটগ্রাম গ্রামস্থ সাবেক এমপি রাবেয়া চৌধুরীর স্বামী মো নাছির উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ২২ শতক(জগপুর মৌজা ১৫৫ দাগে) ও ২০০৯ সালে পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে মোসাম্মৎ ছালেহা বেগম ও অজুফা বেগমের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে (জগপুর মৌজা ১৫৫/২ দাগে) ১৫ শতক জমি কিনেন পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের জগপুর গ্রামের মো. আলী মিয়া।
মোট ৩৭ শতক জমি ক্রয় করার পর থেকে আলী মিয়া ও তার পাঁচ পুত্র জমি ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছর জানুয়ারি মাসে হঠাৎ করে নিজেদের জমি দাবি করে পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম ,তার ভাই তাজলু ইসলাম ও চাচা আবু হাশেমসহ তার পরিবারের সদস্যরা । শহিদুল ইসলাম একটি ভূয়া খতিয়ান বানিয়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। প্রকৃত মালিক কামাল হোসেন গংরা জমির কাছে গেলে বাঁধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক ডাকা হলেও সেই বৈঠকে উপস্থিত হন না শহিদুল ইসলাম গংরা। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় এবং প্রভাবশালীদের সাথে সম্পর্ক থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের বৈঠকে হাজির করতে ব্যর্থ হন।
ভোক্তাভোগী প্রবাসী কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,আমরা পাঁচ ভাই মিলে দুই মালিকানা থেকে ৩৭ শতক জমি কিনি এবং এ জমিগুলো আমাদের কয়েক দশক ধরে দখলে আছে। আমরা এই জমি গুলো চাষাবাদ করে খাচ্ছি। আমাদের জমির পাশের জমি শহিদুল ইসলামদের হলেও এত বছর ধরে তারা কোন কিছু বলল না। হঠাৎ করে এখন ভুয়া খতিয়ান করে আমাদের জমিগুলো নিজেদের বলে দাবি করছে এবং বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা যদি এ জমির অধিকার না ছেড়ে দেই তাহলে আমাদের পাঁচ ভাইকে মেরে ফেলবে বলে তারা হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে অভিযোগ করি। চেয়ারম্যান – মেম্বাররাও সালিস বৈঠক করার চেষ্টা করছেন কিন্তু শহিদুল গংরা সালিসদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বৈঠকে উপস্থিত হন না। উপরন্ত তারা থানা পুলিশ এনে আমাদেরকে হয়রানী করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, এ জমি নিয়ে অনেক জটিলতা আছে। এসব নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে এবং আদালত আমাদের পক্ষ রায় দিয়ে খতিয়ান দিয়েছে।আমরা আমাদের জমি দখলে যাবো । এখানে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নে আসে না।স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পূর্ব জোড়কনন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো হারিছ মিয়া বলেন,আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে আমরা শুনেছি এ বিষয়ে আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারের কাছে উভয় পক্ষ গেলে তিনি বিবাদটি সমাধানের জন্য একটি জুড়ি বোর্ড গঠন করেন ।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার বলেন,এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমি একটি জুড়ি বোর্ড গঠন করে দিয়েছি।এখন কেউ যদি কাগজপত্র জমা না দেয় আমাদের কি আর করা।উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে কাগজপত্র জমা দিতে,এখনো কেউ কাগজপত্র জমা দেয়নি ।এছাড়া বিষয়টি যেহেতু আদালতের,আদালত দেখবে ।
অভিযোগকারী কামাল হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই, আমরা গরিব ও নিরিহ মানুষ। সব কথা বলতেও পারি না।কে কিভাবে আমাদের হয়রানী করতেছে। বললে আবার কোন বিপদ চলে আসে। আমি শুনেছি, কুমিল্লার বর্তমান জেলা প্রশাসক ভালো মানুষ। আমি ডিসি স্যারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এর সমাধান চাই। প্রয়োজনে ডিসি স্যার সামাজিক ভাবে বৈঠক ডেকে আমাদের সুষ্টু বিচার করে দিক। আমরা মেনে নেব। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে আর যেতে চাই না। আমাদের কষ্টার্জিত টাকার জমি আমরা ফিরে পেতে চাই।