কুমিল্লায় কুরবানির বাজার শেষ মুহূর্তে খড়,ঘাস, চাটাই ও গাছের গুঁড়ি বিক্রির হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

মোস্তাফিজুর রহমান ।। রাত পোয়ালেই ঈদ-উল আযহা। ইদ-উল আযহাকে ঘিরে কুমিল্লায় জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। নগরীর বিভিন্ন ফুটপাতে ও রাস্তার পাশে বসেছে চাটাই, গাছের গুঁড়ি, ঝুড়ি , ওড়া, খড় ও ঘাস বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের সাথে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা।গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ও অলিগলি ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কোরবানির জন্য নিজেদের পছন্দের পশু কেনার পর ক্রেতাদের নজর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাকাটার দিকে। যারা এরই মধ্যে কোরবানির পশু কিনেছেন, পশুর মাংস কাটাকাটির জন্য তাদের প্রয়োজন গাছের গুঁড়ি ও চাটাই। মাংস বহনের জন্য প্রয়োজন টুকরি বা ওড়া । গরু-ছাগলকে খাওয়ানোর জন্য কিনছেন খড় ও তাজা ঘাস। কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে এসব সামগ্রী বিক্রি বেশি হচ্ছে কুমিল্লায়। তবে অনেকে আগেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রেখেছেন অনেকেই।

গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় খড় ও ঘাস বিক্রি হচ্ছে। আর চাটাই ও কাঠের টুকরা নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ফুটপাত ও রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর চার-পাঁচ দিন এ ব্যবসা করেন।
নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী আবদুল বলেন, আমি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। তবে চার বছর ধরে ঈদুল আযহার আগে চাটাই ও গাছের গুঁড়ি বিক্রি করে আসছি। এই এলাকায় যারা কোরবানি করেন তারাই আমার ক্রেতা। অন্যান্য এলাকার তুলনায় আমি অনেক কম দাম রাখি । তাই চার-পাঁচ দিন ধরে এখানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে।
চকবাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, আমি আজকে কয়েকবছর ধরে ইদের পূর্ব মুহূর্তে খড় ও ঘাস বিক্রি করি। প্রতি আঁটিতে ১৫ টাকার মতো লাভ থাকছে। কুমিল্লাতে খড় ও ঘাসের ভালো চাহিদা আছে।
চকবাজারের একজন স্থায়ী ব্যাবসায়ী ইমতিয়াজ বলেন, আমার এই ব্যবসা অনেক বছর। পুরো মাসে যা বিক্রি হয় শুধু ঈদের আগের দিন তা বিক্রি হয়। গত বছর ঈদের আগের দিন প্রায় ৩০ হাজার টাকার সামগ্রী বিক্রি করেছি আমি। এবারো আশা আছে গতবারের চেয়ে বেশি বিক্রি হবে।
সরেজমিনে নগরীর চকবাজার, রাজগঞ্জ এবং বাদশামিয়ার বাজার,গোপালেট্টি, মোগলটুলি এবং ছাতিপট্টি ঘুরে দেখা যায়, এক আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়। তাজা ঘাসের দাম ৫৫-৬০ টাকা। আর পশুর হাড়-মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি এবং চাটাই ও টুকরির দাম নির্ভর করছে আকারের ওপর। ছোট আকারের চাটাই পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়, মাঝারি ১৫০ ও বড় আকারের চাটাই বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। টুকরির বা ওড়ার দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আর তেঁতুলগাছের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০-৬০০ টাকায়।