কুমিল্লায় চাহিদা বাড়ছে কচু ফুলের : রপ্তানীর কথা ভাবছে কৃষকরা

# কচু চাষ করে প্রথমে খাওয়া যায় লতি, ২য় ধাপে ফুল এবং ৩য় ধাপে কচু
শাহাজাদা এমরান ।।
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

কুমিল্লায় কচু ফুলের চাহিদা বাড়ছে। দেখতে সুন্দর খেতে মজা তাই দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ছে চর্তুদিকে। এর মধ্যে জেলার বরুড়া উপজেলায় এ ফুলের চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। এবং অন্য উপজেলার কচু ফুলের তুলনায় বরুড়ার কচু ফুল স্বাদ ও মানে অনন্য বলে জানিয়েছেন কৃষক,ক্রেতা ও বিক্রেতারা। এই ফুলের মৌসুম হচ্ছে বর্ষাকালে । কুুমিল্লার জেলা ব্যাপী এই কচু ফুলের চাহিদা থাকলেও চাহিদার তুলনায় এখনো উৎপাদন সে ভাবে হয়ে উঠেনি । তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ পরিচালক আইউব মাহমুদ বলেছেন, কুমিল্লা জেলার বরুড়া ও চান্দিনা ছাড়া এখনো সে ভাবে কচুর ফুল বানিজ্যিক ভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বাড়ছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়- কচুর পাতা, ডাটা, লতি, শিকড় সবই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। তবে কচুর ফুল আমাদের দেশে এখনো সেভাবে কেউ খায়নি। আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে এই ফুল সবজি হিসেবে খাওয়ার চাহিদা বাড়ছে বলে বরুড়া উপজেলার আগানগর গ্রামের কৃষক আবদুল লতিফ জানান।

কৃষক আবদুল লতিফ আরো জানান, কচুর ফুল রান্না করাটা কঠিন নয় বরং অনেক সহজ এবং খেতেও ভীষণ মজা। যেমন মজা তেমনি অনেক উপকারি এই ফুল। তাছাড়া প্রতি কেজি কচুর ফুল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। ১/২ ঘন্টা কচুর ক্ষেত থেকে শত শত কেজি কচুর ফুল সংগ্রহ করতে পারছে কৃষকেরা। এতে বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় তাদের আয় বাড়ছে, ফিরছে পরিবারে সচ্ছলতা।

একই এলাকার কৃষক আলী মিয়া জানান, কচু চাষে কৃষকরা দারণ লাভবান হচ্ছেন। কচু চাষ করে প্রথমে লতি বিক্রি করছে। ২য় ধাপে কচুর ফুল বিক্রি করছে। ৩য় ধাপে কচু বিক্রি করেও কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সম্প্রতি কচুর ফুল মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজারে এর দামও অনেক ভালো। এতে করে কৃষকরা অনেক লাভবান হচ্ছেন।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কচুর ফুল খেতে অনেক মজা। কচুর ফুলে রয়েছে অনেক গুনাগুন। এমনিতে বরুড়ায় ব্যাপক হারে কচুর চাষ হয়। বিশেষ কচুর লতি। বরুড়ার কচুর লতি দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে। সম্প্রতি কচুর ফুলও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশা করছি এটিও খুব দ্রুত দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর২৩) বিকেলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ পরিচালক আইউব মাহমুদের কাছে কচুর ফুল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি আয়রন সমৃদ্ধ সবজি। এটি রক্ত শূণ্যতা দূর করে। যার কারলে দ্রুত এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে কুমিল্লায় এখনো ,বরুড়া ও চান্দিনা ছাড়া সে ভাবে কচুর ফুল বানিজ্যিক ভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে কতটুকু উৎপাদিত হচ্ছে এর সঠিক পরিসংখ্যান বলতে পারব না। তকে কয়েক টন হচ্ছে এটি বলতে পারি।