কুমিল্লায় তিন সেবাগ্রহীতাকে চেয়ার দিয়ে পেটালেন পাসপোর্টের ডিডি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। তিন সেবাগ্রহীতাকে চেয়ার দিয়ে পেটালেন কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক(ডিডি)। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে দুইজন সংবাদকর্মীর সাথে অসদাচরণ করে সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়া হয়।
সূত্র জানায়,ওই তিন সেবা গ্রহীতার একজন মোঃ সাকিব। তার বাড়ি কুমিল্লার হোমনা। সোমবার সকালে এসেছেন পাসপোর্ট নেয়ার জন্য। এ সময় সাকিব পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অফিসের নিচতলায়। ৪ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর ক্লান্ত সাকিব পাশে থাকা একটি চেয়ারে বসে পড়েন। তার সাথে আরো অন্তত তিন চারজন সেবাগ্রহীতা বসেন। এটি মূলত এক কর্মকর্তার টেবিলের পাশের চেয়ার ছিলো। এ সময় পাসপোর্ট অফিসের ডিডি মোঃ নুরুল হুদা নিচে নেমে এসে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে সেবাগ্রহীতাদের পেটাতে থাকেন। চেয়ার ভেঙ্গে গেলো ওই সেবা গ্রহীতাদের চড় থাপ্পড় দিতে থাকেন।
মোঃ সাকিব বলেন, ডিডি স্যার চেয়ারে বসার অপরাধে আমাদের চেয়ার দিয়ে পিটিয়েছেন। আমার সাথে থাকা আরো দুজন ভয়ে অফিস থেকে চলে গেছে। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সংবাদকর্মী রকিবুল ইসলাম রানা ও মোঃ সাফির সাথে ডিডি অসদাচরণ করেন। তিনি ওই সংবাদকর্মীদের মোবাইল ফোন নিয়ে যান। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সহিদুর ও পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর।
এবিষয়ে ওসি সহিদুর রহমান জানান, শুনেছি উপপরিচালকের সাথে সেবাগ্রহীতাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। আর বেশি কিছু জানি না। অপরদিকে ঘটনার তিন ঘন্টা পর ওসি সহিদুর রহমান এবং থানার তদন্ত কর্মকর্তা কমল দে’র উপস্থিতিতে ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফেন সাংবাদিকদের ফেরত দেয়া হয়।
সংবাদকর্মী মোঃ রকিবুল ইসলাম রানা বলেন, আমার পাসপোর্টের বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাই। ওই সময় দেখি পাসপোর্ট অফিসের ডিডি আমার কিছুটা সামনে তিন চারজন সেবাগ্রহীতাকে চেয়ার দিয়ে পেটাচ্ছেন। জানতে চাইলে ভুক্তভোগীরা জানান,তারা ভুল করে অফিসের কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসেছিলেন। এ জন্য তাদেরকে পেটানো হয়। ঘটনার বিষয়ে পাসপোর্টের ডিডির কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সাথে অসদাচরণ করেন। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
বিষয়টি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ নুরুল হুদা জানান, তিনি কাউকে মারধর করেননি। ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কারো কাছে বক্তব্য দিতে বাধ্য নই।