কুমিল্লায় দুটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের দ্রুত চিকিৎসা দরকার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকারকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। উপহারের দুটি অ্যাম্বুলেন্স পায় কুমিল্লা জেলা। তার একটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অপরটি চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তার প্রতিশ্রুতি রাখলেও তার প্রতিশ্রুতির ফল যেন বিফলে যাচ্ছে। অযত্ম এবং অবহেলায় দীর্ঘ দিন ধরে বেকার পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে এই দুটি অ্যাম্বুলেন্স। সংশ্লিষ্টদের একজন জানান, লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স দুটিকে লাইফ সাপোর্টে (দ্রুত ব্যবহার না করলে) না নিলে একেবারেই অকেজো হয়ে যাবে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একটি লোহার কক্ষে পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। নিচে শুয়ে আছে কুকুর। অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে ধুলোর পরত। সামনের ও পেছনের লাইট গুলিও অস্পষ্ট হয়ে গেছে। যেন গ্যারেজে তালাবদ্ধ লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটির নিজেরই প্রয়োজন লাইফ সাপোর্ট।
সচেতন মহলের প্রশ্ন , হাজার হাজার রোগীর কারোর কি এই লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সটির প্রয়োজন নেই? এই বিষয়ে কথা হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে। তারা জানিয়েছেন, জনবল সংকটের কারণে মাসের পর মাস পড়ে আছে গ্যারেজে। কখন এই লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স গুলোর লাইফ ফিরে আসবে তারা নিজেরাও জানেন না।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু জাফর জানান, লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের যে কাজ আমরা তা জানিনা। আমরা শুধু চালাতেই জানি। এটার কাজ ডাক্তারেরা জানেন। তাই আমরা এটা চালাতে পারবো না। এটা আনারপর কোনদিন দেখিনি এটা চলতে। রোগী নিতেও দেখিনি।প্রথম দিন থেকে গ্যারেজেই পড়ে আছে। এভাবে পড়ে থাকলে জিনিসটা নষ্ট হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি চালানোর লোক নেই। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এটার প্রয়োজন হয়না তেমন। কেন পড়ে আছে এটা বুঝিনা।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, জরুরী বিভাগে আমার ডিউটি। জরুরী বিভাগের সামনেই পড়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্সটি। কোনদিন রোগী উঠতে দেখিনি। শুধু মাঝে মধ্যে ড্রাইভার একজন এসে এটা হাসপাতালের মধ্যে ঘুরিয়ে আবার রেখে দেন।
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের ৫০ শয্যার হাসপাতাল। এখানে লাইফ সাপোর্টের তেমন রোগী নেই। আর আমাদের অ্যাম্বুলেন্স দুইটি। চালক একজন। তাই এটা তেমন বের করা হয় না। তবে প্রয়োজন হলে বের করা যাবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, উপহারের অ্যাম্বুলেন্স পেয়েছি আমরা। কিন্তু চালক পাইনি। আর এই অ্যাম্বুলেন্সটির তেল খরচ একটু বেশি। তাই অনেকে নিতে চায় না। যদি কেউ নিতে চায় আমরা দেব। তাছাড়া এটার জন্য ডাক্তার ও নার্স প্রয়োজন হয়। আলাদাভাবে নার্স ডাক্তার না থাকলেও আমরা বলেছি প্রয়োজন হল আমরা এনেস্থিসিয়া থেকে ডাক্তার ও নার্স দেব।