কুমিল্লায় যুবদল ক্যাডার ও সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী মাসুকের নেতৃত্বে সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা-

থানায় অভিযোগ , অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি ও সাংবাদিক মহলের নিন্দা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লায় মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্যাডার কায়সার ও অসাধু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মাসুকের নেতৃত্বে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলার প্রকাশনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান রাসেলের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক সুফিয়ান বাদী হয়ে যুবদল ক্যাডার কাউসার ও ব্যবসায়ী মাসুককে আসামী করে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ রোডস্থ ঢুলিপাড়া মোড় এলাকায়। অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাংবাদিক আবু সুফিয়ান রাসেলের উপর হামলার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুবদল ক্যাডার কাওসার ও অসাধু ব্যবসায়ী মাসুককে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলার সভাপতি ইয়াসমীন রীমা ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরানসহ কুুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমের নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, মঙ্গলবার(২০ জুন) দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার আবু সুফিয়ান রাসেল সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষে মোটর সাইকেল করে ঢুলিপাড়া মোড়ের উল্টোপথে আসার সময় একটি রিক্সা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের একটি পার্স ভেঙে যায় ও ধাক্কা লাগাতে সাংবাদিক সুফিয়ান পায়ে আঘাত পায়। এরপর রিক্সা চালকের সাথে সাংবাদিক সুুফিয়ান ও তৌহিদের বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল হোসেন কাওছার নামের এক যুবদল ক্যাডার সাংবাদিক আবু সুফিয়ানের শার্টের কলার ধরে টানা হেচরা করার সময় পাশে থাকা ব্যবসায়ী মাসুক সাংবাদিক সুফিয়ানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
অসাধু ব্যবসায়ী মাসুক সাংবাদিক সুফিয়ানকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি পরে কুমিল্লার সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে ফোন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন , অসত্য ও কাল্পনিক নানা অভিযোগ করেন। এমনকি কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজকে ফোন করে আারো অনেক অবান্তর কথা বলেন। পারে সাংবাদিক নেতা পারভেজ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী মাসুক ফোন কেটে দেন। এমন একটি ভিডিও সাংবাদিক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজের কাছে সংরক্ষণ রয়েছে।
হামলার ঘটনার পর আহত অবস্থায় সাংবাদিক সুফিয়ান কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন পরে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি জিডি করেন ।
সাংবাদিকের উপর হামলার বিষয়ে সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী মাসুক বলেন, আমি কোনো হামলা করিনি। রিক্সার ড্রাইভারকে মারতে গেলে আমি তাদের উভয়কে সরিয়ে দেয়।
যুবদল ক্যাডার তোফায়েল হোসেন কাওছার বলেন, রাস্তার প্রায় মাঝখানে রিক্সার উপর সাংবাদিক যখন বসে আছে। তখন আমি তাকে রিক্সা থেকে নামিয়ে রিক্সাটি এক পাশে রাখি। উচ্চস্বরে কথা বলা ছাড়া এখানে আমার কোনো অন্যায় নেই। সাংবাদিক সুফিয়ানের শশুর বাড়ির দিক থেকে সে আমার আত্মীয় হয়। আমি কেন তাকে মারতে যাব।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ বলেন, এখন সাংবাদিকদের উপর হামলাটা মনে হয় পেশায় পরিনত হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিক এখন থেকে আরও বেশী সোচ্চার হবে। আমাদের প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফুর ভাই ও বলেছে এঘটনাটি মেনে নেওয়া যায়না। অবিলম্বে এ ন্যাক্কারজনক হামলা যারা চালিয়েছে তাদের ছাড় না দিয়ে আইনের আওতায় আনা হোক।
বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেছেন, অত্যন্ত নম্র,ভদ্র ও শিক্ষিত সাংবাদিক সুফিয়ানের উপর যারা হামলা চালিয়েছে তাাদের পরিচয় তারা সন্ত্রাসী। তাদের কোন ভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশের কয়েকটি টিম আসামিদের আটক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনার বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বিপিএম বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। আমি কোতয়ালী থানা ইনচার্জের সাথে কথা বলব, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে।