কুমিল্লায় রমজানে ডাবের চাহিদা বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সাইমুম ইসলাম অপি ।।
সকলের পছন্দের একটি ফল ডাব। ডাব আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাওয়া যায় ডাবের দোকান। শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ডাবের অনেক অবদান রয়েছে। শহরে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি। হসপিটাল, ফুটপাত কিংবা রাস্তার মোড়ে ডাব নিয়ে বসে থাকা এই মানুষগুলোর সংসার চলে ডাব বিক্রি করে। এমনিতেই সারা বছরই থাকে ডাবের চাহিদা। তবে এইবার রমজান মাসের শুরুতেই কুমিল্লায় ডাবের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে দামও। বিক্রেতারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারিতে ডাব ক্রয় করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বসে তা বিক্রি করে।

দু’মুটো ভাত খাওয়ার জন্য রাস্তার পাশের ধুলোবালি এবং শব্দ দূষণ নিয়ে স্বপ্ন দেখা সহজসরল মানুষগুলোর সবচেয়ে বড় পরিচয় নিম্নবিত্ত। দারিদ্র যাদের নিত্যসঙ্গী, যারা দিন এনে দিন খায়, স্বল্প চাহিদা নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা সেই মানুষগুলো প্রতিনিয়ত লড়াই করছে জীবিকা নির্বাহের জন্য।

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত চলমান থাকে ডাব বিক্রি। সবচেয়ে বেশি খায় হসপিটালের রোগীরা। রোজা এলে বেড়ে যায় উপার্জন। নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি পিস ডাবের দাম ৬০-৮০ টাকা। ডাব বিক্রেতারা দৈনিক ১৫০ পিস ডাব বিক্রি করে। যাতে লাভ হয় ৭০০-৮০০ টাকা। গ্রামের তুলনায় শহরে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি।

শীতের সিজনে প্রতি পিস ডাব কেনা পড়ে ৫০ টাকা। যা গরমের সিজনে কিনতে হয় ৬৫ টাকা দিয়ে।
নগরীর বাদুরতলার ডাব বিক্রেতা, মু.শাহজাহান বলেন, ডাব বিক্রি করছি প্রায় দু’বছর। ডাব বিক্রি করেই তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে আল্লাহ সংসার চালায়। রোজাতে বিক্রি বেড়েছে। পূর্বে দৈনিক বিক্রি করতাম ৮০ টি ডাব। রোজায় বিক্রি হয় ১৫০ টি ডাব। প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকা লাভ হয়। এখানে ডাব বিক্রির জন্য কাউকে কোনো টাকা পয়সা দেওয়া লাগে না। যার জায়গা তিনি উৎসাহ দেয়। জায়গার মালিক বলেছেন, কারো দ্বারা সমস্যায় পড়লে যেন তাকে অবহিত করি।

ধর্মসাগরের ডাব বিক্রেতা কামরুল বলেন, রোজার আগে খুচরা বিক্রি করতাম। রোজা আসায় অনেকে একসাথে ৫/১০/১৫ টা নিয়ে যায়। যার ফলে রোজাতে আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। ডাব বিক্রি করে সুন্দরভাবে সংসার চলছে। বিন্নি ডাবের দাম সবচেয়ে বেশি। বেচাকেনা হলে উত্তপ্ত গরমের কথা ভুলে যাই।

ডাব কিনতে আসা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক বলেন, ডাব খেলে পানি শূণ্যতা দূর হয়। বন্ধুদের নিয়ে প্রায় ধর্মসাগর পাড় ডাব খেতে আসি। চেষ্টা করি নিয়মিত ডাব খাওয়ার। ডাবের উপকারিতা অনেক বেশি।