কুমিল্লা টাউনহলে আগামীকাল বিএনপির দুই গ্রুপের সমাবেশকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা : সংঘর্ষের আশঙ্কা

জাহিদ হাসান নাইম।।
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠে আগামীকাল  বৃহস্পতিবার একই দিনে বিএনপির দুই গ্রুপের দুটি পৃথক কর্মসূচি ঘিরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষই প্রশাসনের কাছে আলাদা আলাদা আবেদন জমা দিয়েছে। মাঠ বরাদ্দ ও জনসমাগম সংক্রান্ত ইস্যুতে গতকাল দুপুর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টাউনহল এলাকায় সতর্ক মোতায়েন রয়েছে।

জানা যায়, এক পক্ষের আয়োজনে  বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর বিকাল ২টায় টাউনহল মাঠে কুমিল্লা ৬ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ কর্মসূচির বিষয়ে থানাকে অবহিত করে তার ব্যক্তিগত আইনজীবী এডভোকেট আবদুল মোতালেব মজুমদার একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জনসভায় জেলা, মহানগর ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক, টাউনহল কর্তৃপক্ষ এবং মাঠ বুকিংয়ের রশিদসহ সব কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন একই স্থানে একই আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির হেভিওয়েট নেতা হাজী ইয়াছিনের পক্ষে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান জেলা প্রশাসকের কাছে মাঠ বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদন বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনের সদস্য সচিবের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

দুটি গ্রুপের কর্মসূচি একই সময় ও একই স্থানে পড়ায় গতকাল থেকেই টাউনহল এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মাঠে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী ইয়াছিনের অনুসারী মহানগর যুবদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা ১৮ তারিখে আবেদন জমা দিয়ে এই অনুমতি নিয়েছি। তারা যদি আমাদের আগে অনুমতি নিয়েই থাকে তাহলে, আমাদেরকে তো অনুমতি দেওয়ার কথা না। আমরা ২ দিন আগ থেকেই স্টেজের কাজ শুরু করেছি। আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্য কারো প্রোগ্রাম ছিলো এটা আমাদের জানা ছিলো না। এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে, মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষের বিএনপি নেতা এডভোকেট মোতালেব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অনুমোদন নেওয়া আছে। আমাদের প্রোগ্রাম হবে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, রাত ৮ টায় কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আলোচনার টেবিলে গেছে। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে|

এ দিকে, দুই পক্ষের একাধিক সূত্র মতে জানা গেছে, উভয় পক্ষই যে কোন মূহুর্তে অনুষ্ঠান করতে বদ্ধপরিকর। এতে যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, প্রশাসন যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যার্থ হয় তাহলে চরম মূল্য দিতে পারে বিএনপির দুই গ্রুপকেই।