কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের নেপথ্যের কারণ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

গত ১ অক্টোবর শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ কুবি প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সামনে যে ভাবে অস্ত্র প্রদর্শেনের মহড়া দিয়েছে তাতে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশে পাশে বাস করা সাধারণ মানুষও আতংকিত হয়ে পড়েছে। কেন ছাত্রলীগের এমন অস্ত্রের মহড়া তা জানতে গিয়ে বেড়িয়ে এসেছে নানা চমকপ্রদ তথ্য।
জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে কোন সময়ে সম্মেলন করে কুবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। সে খবর চাউর হতেই ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে হত্যা মামলার আসামী ও ছাত্রত্ব নেই এমন পদপ্রত্যাশীরা। তাদের উদ্দেশ্য যে করেই হউক আগামী কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেয়া।
সে লক্ষ্যই প্রতিপক্ষের লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিচ্ছে। আবার কখনো প্রতিপক্ষের অনুসারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলে নিয়ে মারধর করছে। এসব অভিযোগ হত্যা মামলার আসামী বিপ্লব চন্দ্র দাস ও রেজা ই এলাহীর বিরুদ্ধে। তাদের কারনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কমপক্ষে কুড়িজন সাধারণ শিক্ষার্থী।
২০১৬ সালে আগস্টের প্রথম প্রহরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার সময় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে খুন হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ।
এ খুনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পর ৬ আগস্ট মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও মার্কেটিং চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিপ্লব চন্দ্র দাসকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। বিপ্লব হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে সে এখন জামিনে মুক্ত।
জামিনে মুক্ত হয়েই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বিপ্লব চন্দ্র দাস। নিজের অবস্থান জানান দিতে ১ অক্টোবর মোটর বাইক বহর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। বিপ্লবের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সামনেই মহড়া দেয়। বিপ্লবকে সমর্থণ দিচ্ছে কুবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা ই এলাহী। রেজা ই এলাহী নিজেও কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার আসামী।
আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারো রক্তাক্ত হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। যে কোন সময় বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে সে জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতংকে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ছাত্রত্ব নেই কিংবা অটোরিকশা চালকদের এক করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায়ই মহড়া দেয় রেজা ই এলাহী।
মুলত ছাত্রলীগের আগামী কমিটিতে মূল পদে আসার জন্যই একে অপরের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কুবি ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস সবুজ ও রেজা ই এলাহী গ্রুপ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এখনি কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যে কোন সময়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারে কুবিতে আশংকা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আবদুল মঈন বলেন, সেদিন আমরা প্রথমে চিন্তা করেছি আমার কোন শিক্ষার্থী যেন খুন না হয়, কোন রক্তপাতের ঘটনা যেন না ঘটে। সে লক্ষ্যই দ্রুত হল বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ করেছি। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হউক আর ক্লাশ হউক, সবাইকে তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হবে। আমরা এ সিদ্ধান্তে অটল আছি।