কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ

মাঠে উত্তাপ, জটিল সমীকরণে দলীয় প্রার্থিতা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

দে লো য়া র জা হি দ :
বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তির প্রতি দেশ ও তার নির্বাচন সংস্কৃতি ভেদে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনগুলোতে যে কোনো দলীয় অঙ্গীকারের একটি বিবৃতি থাকে, ধমনীর স্পন্দনের মতো এতে অনুভূত হয় তার ধ্বনন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন (কুসিক ) এর খবর গণমাধ্যমে এখন সরব. এগুলোর পুনরাবৃত্তি শুধুমাত্র সময়ক্ষেপন ছাড়া আর কিছুই নয়. তবে এর বিশ্লেষণ করা খুবই জরুরি। ২০ মে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে উল্ল্যেখযোগ্য খবর গুলোর মধ্যে ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য কুসিক নির্বাচন তার গুরুত্বের স্থানটুকু দখল করে নিয়েছিল। এরমধ্যে বাংলাদেশের খবর “আসন্ন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনের অগ্নিপরীক্ষা” শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশ করে, প্রথমআলো কুমিল্লার সাবেক মেয়র মনিরুলকে বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার এর খবর প্রকাশ করে, যুগান্তর “কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কায়সারকে বহিষ্কার” এবং সাক্কু বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কার এ দুটি সংবাদ সহ “কুসিকে রিফাত সাক্কুসহ ৫ মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ” কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত এবং বর্তমান মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কুসহ ৫ মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।—রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তাদের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেন।—ছয় মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।—মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজামুদ্দিন কায়সার, ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুলের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।(সূত্র:যুগান্তর ) বিলম্বে জানা যায় স্থগিত মনোনয়নটিও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে প্রকাশ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৭ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১২০ জন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ৩৮ জন। মেয়র পদে ৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন যার মধ্যে ৫ মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ গণ্য হয়েছে । অপর দিকে নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডে সৈয়দ রায়হান ও ১০ নং ওয়ার্ডে মঞ্জুর কাদের মনি একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দুই কাউন্সিলর। এ দুই ওয়ার্ড থেকে আর কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি। তারা যাচাই বাছাইয়ে তাদের মনোনয়নপত্র টিকে গেলে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিজয়ী তারা হবেন।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী রিফাতকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে তলব করার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গত ১৫ মে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে। কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের উপস্থিতিতে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে সমাবেশ ও মিছিল করায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নি অফিসারের কার্যালয়ে তলব করে আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে কোন সভা সমাবেশ ও প্রচারণা করতে নিষেধ করা হয়েছে।

গত ১৬ মে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে জয়যুক্ত করতে অনুরোধ জানান । এসময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম শাহিন, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট গোলাম ফারুক, এডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক মানিক খন্দকার, কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেম মোঃ ফিরোজ, কুমিল্লা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিতা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আইরিন আহমেদ, কুমিল্লা জেলা তাঁতীলীগের
সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল বারী চৌধুরী হীরুসহ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ সহ অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন (সূত্র কুমিল্লার কাগজ )

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপসচিব ড. সফিকুল ইসলাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এবং তার দায়িত্ব ও বুঝে নিয়েছেন। গত সোমবার (১৬ মে) শেষ কর্মদিবসে কুমিল্লা নগর ভবন থেকে মেয়র সাক্কু বিদায় নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন ।

“১০ নাম্বার জার্সিটা তারই” শীর্ষক ২০ মে ২০২২ এক প্রতিবেদনে মানব জমিনের ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুসিক নির্বাচন নিয়ে মাঠের একটি চিত্র তোলে ধরেন।—” পুরনো লড়াইয়ের কথা বলছিলাম। কিন্তু সে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে আগেই। বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান ইতিমধ্যে প্রয়াত। যদিও তার অনুসারীরা এখনও সক্রিয়। রাজনীতির মাঠে রয়েছেন তার কন্যা আঞ্জুম সুলতানা সীমা। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। সীমার ভাই মাসুদ পারভেজ খান ইমরান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য। তবে ১৩-১৪ বছর ধরে কুমিল্লার রাজনীতিতে হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারই প্রথম এবং শেষ কথা। তার অনিচ্ছায় শহরে কিছু হতে পারে বেশিরভাগ মানুষই তা বিশ্বাস করেন না। কুমিল্লা জেলায় দুই জন প্রভাবশালী মন্ত্রী থাকলেও সদরে একক প্রভাব বাহাউদ্দিন বাহারের। এ আসনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অল্প বয়সে ছিলেন পৌরসভার চেয়ারম্যানও। কুমিল্লা পৌরসভার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গড়েছিলেন রেকর্ড। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিও তিনি। —তার পক্ষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনেও হাজির ছিলেন বাহারের পক্ষের প্রায় সব নেতা। এ সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের নিশ্চিত জয়ের ব্যাপারে কনফিডেন্ট মনে হয়েছে এ নেতাদের। যদিও মাদকে পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক ধরনের চাপে রয়েছেন তিনি। কয়েকটি পত্রিকায় এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। মামলা হয়েছে ভোরের কাগজের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি রিফাতের। মাসুদ পারভেজ ইমরানের মনোনয়নপত্র দাখিলও তার ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যাপারে ইমরান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নগরীর মানুষের সঙ্গে আছি। নেতাকর্মী ও নগরীর মানুষের অনুরোধে আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। কারও বিরুদ্ধে বা কাউকে ঠেকাতে না, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।” যদিও ইমরানের প্রার্থী হওয়াকে নিজের জন্য কোনো ধরনের চাপই মনে করেন না রিফাত। তিনি মানবজমিনকে বলেন, “নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমি নির্বাচন করবো।

আমরা একাডেমিক হিসেবে ক্লাসরুমের ভিতরে এবং বাইরে আমাদের অনুষদ, ছাত্র এবং কর্মীদের মধ্যে রাষ্ট্রনীতির বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি প্রচারের জন্য সর্বদা নিবেদিত থাকি । বৈচিত্র্যের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত কিন্তু আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জাতি, ধর্ম, বয়স, লিঙ্গ পরিচয়, লিঙ্গ অভিব্যক্তি, যৌন অভিমুখীতা, জাতীয়তা বা উত্সের স্থান, অক্ষমতা, এবং অনন্য কাজ বা জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারিনা । বরং আমাদের লক্ষ্য থাকে মানবিক পার্থক্যের এই জাতীয় ক্ষেত্রগুলির মধ্যে একটি বৈষম্য মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করার মাধ্যমে প্রত্যেক সফল হওয়ার সমান সুযোগ প্রদান করা। আমাদের ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যকে দার্শনিক অনুসন্ধানের জন্য ও শৃঙ্খলাকে ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য হিসাবে বিবেচনা করি। কানাডার মতো একটি “পূর্ণ গণতন্ত্র” এর দেশে একটি উদারনীতির ঐতিহ্য এবং একটি সমতাবাদী, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে গবেষণা ও আদর্শের পরিচর্যা করি। কানাডিয়ান সমাজে অতি-বাম এবং অতি-ডান রাজনীতি কখনই একটি বিশিষ্ট শক্তি হিসেবে দেখা দেয়নি। কানাডিয়ান রাজনীতির একটি ঐতিহ্যবাহী মডেলের মধ্যে নির্বাচনীকে গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়. নির্বাচনী গণতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি যদিও আলোচনার দাবি রাখে; অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ এবং সেগুলি প্রয়োগ করার দৃঢ় ইচ্ছা ছাড়া গণতন্ত্র নিজেকে বাস্তবায়ন ও বিকশিত করে না, বা এটি শক্তিশালী ও সুস্থ থাকে না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেয়ে গণতন্ত্র অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ; তবে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এর মৌলিক শর্তগুলোর অভিন্ন যেমন নির্বাচনের জন্য একটি অর্থবহ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং একটি জীবন্ত ও দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রে অবদান রাখে।
➤জন প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্য নির্বাচকদের সমান মতামত দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা আইন এবং পদ্ধতির সেট দ্বারা তা পরিচালিত করা । ➤নির্বাচনী অংশগ্রহণকারীরা ভোটারদের অংশগ্রহণকে সুরক্ষিত করার জন্য ডিজাইন করা নিয়মগুলি যেন মেনে এবং এতে হস্তক্ষেপ করে এমন অনুশীলনগুলিকে উন্মোচন ও তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে । উন্নত বিশ্বে নির্বাচন অনুশীলন কোন রকেট সাইন্স নয় এখানে নির্বাচনী অখণ্ডতা, অংশগ্রহণ, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা,এবং অভিযোজনযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরী করা হয়েছে।

একটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে এবং ফলাফলগুলি ভোটারদের ইচ্ছাকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করেছে কিনা তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় । এর জন্য একটি অর্থবহ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং একটি জীবন্ত দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের রাস্তার মানচিত্র তৈরি করতে হবে বাংলাদেশকে। কুমিল্লার সিটি নির্বাচন হোক সে কাঙ্খিত মডেলের পাদপীঠ।

[লেখক : সিনিয়র রিসার্চ ফ্যাকাল্টি মেম্বার, প্রাবন্ধিক ও রেড ডিয়ার (আলবার্টা, কানাডা ) নিবাসী]