কুসিক নির্বাচন : নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সিইসি’র কাছে ৭ দফা দাবী কায়সারের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করাসহ বিভিন্ন দাবীতে রিটানিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট সাত দফা দাবী জানিয়ে স্মারক লিপি প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার উপস্থিত হয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রির্টানিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধূরীর মাধ্যমে এ স্মারক লিপি পাঠান।
নিজাম উদ্দিন কায়সার স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ইউপি ও পৌর নির্বাচনে জনগনের অংশগ্রহন ছিলনা। দিনের ভোট রাতে, কেন্দ্র দখল ও ভোটার শূণ্য কেন্দ্র ছিল। যা ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করলেও বুঝা যায়। জনগণের মধ্যে এখনও সেই ভয়, আতঙ্ক ও সন্দেহ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে কিছু মোটরসাইকেল আটক ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি ভোটারদেরকে ভয় ও শংকামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোটারদের এ বিষয়ে আস্বস্ত করার উদ্যোগ প্রহন করতে হবে।
ইভিএম-এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের আপত্তি রয়েছে। সাধারণ ভোটাররাও এ বিষয়ে আপত্তি তোলার পাশাপাশি ভোটের ফলাফল পাল্টিয়ে দেয়া হবে বলে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের নিয়ে এ ব্যাপারে কোন আলাচেনা ব্রিফিং কিংবা বিস্তারিত কোন কিছুই তুলে ধরেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু জানেন না প্রার্থীরা। যেহেতু বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ তাই কুমিল্লা সিটি কপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে ভোট গ্রহনের দাবি জানানা তিনি।
আবেদনে আরো উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোন কর্মকর্তাকে ভোট গ্রহন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়াগে দিবেনা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য তিনি অভিনন্দন জানান। সেই একই কারণে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক, পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার ও মাঠ প্রশাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা , সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্বাচনকালীন (প্রতীক বরাদ্দের পূর্বেই) বদলীর দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানান। সিসি ক্যামেরার সুবিধা যাতে আগ্রহী প্রার্থীরা পায়, অর্থাৎ প্রার্থীরা তাদের স্ব-অবস্থানে থেকে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
নির্বাচনের সময় পর্যন্ত আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া কোন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানান।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের ২ জন সদস্যের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম কুমিল্লায় অবস্থান নিশ্চিত করার দাবী জানান।
এছাড়াও প্রার্থীদের অভিযোগ হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার সহ অন্যান্য অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রহন করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে রির্টানিং কর্মকর্তা মো: শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, একজন মেয়র প্রার্থী প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করেছেন। আমার নিকটও একটি অনুলিপি পেশ করেছেন। আমি আবেদনের কপি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি মেয়র প্রার্থীর আবেদনগুলো যাচাই করে দেখা হবে।
এরপর বিকেলে একই দাবীতে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার তার বাদুরতলাস্থ নিজস্ব বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।