কুসিক নির্বাচন : নির্বাচনী বাক যুদ্ধের উত্তাপে হার মানছে রোদের উত্তাপ

ভোটের মাঠে নৌকার ভোট নেই বলেই রিফাত সাহেব প্রলেপ করছেন - সাক্কু নৌকার গণজোয়ার দেখে দূর্নীতিগ্রস্থ সাক্কু আবোল তাবোল বলছেন- রিফাত নগরবাসী এ টিম- বি টিম নয়, তারা স্বতন্ত্র টিম হিসেবে ঘোড়াকে চায়- কায়সার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রধান প্রধান মেয়র প্রার্থীদের বাকযুদ্ধ যেন ততই বাড়ছে। তাদের নির্বাচনী বাক যুদ্ধের উত্তাপ এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে রোদের উত্তাপকেও হার মানিয়েছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলতে এক চুল পরিমানও রাজি না। রোববার দিনভর গণসংযোগ ও পথ সভায় আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত , স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার একে অপরের বিরুদ্ধে বিষেদগার করেন এবং নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য নগরবাসীকে আহবান জানান।

আরফানুল হক রিফাত :
কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেছেন, নির্বাচনে নৌকার পক্ষে দিন দিন গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। নগরীর সাধারণ মানুষ নৌকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নৌকা মার্কার এই গণজোয়ার দেখে সাবেক দূর্নীতি গ্রস্থ মেয়র সাক্কু আবোল তাবোল বলছেন। রিফাত বলেন, তিনি (সাক্কু) ভাবলেশহীন হয়ে পরেছেন। কুমিল্লার মানুষ কুমিল্লা সিটির দূর্ভোগ থেকে পরিত্রান চায়, সেই সাথে পরিবর্তন চায়।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত রাবিবার সকালে গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন। সকাল থেকে নগরীর মোগলটুলী, ফৌজদারি সাব-রেজিষ্ট্রি মোড়, পুলিশ লাইন মোড় ও বাগিচাগা ডায়াবেটিক হাসপাতাল মোড় জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেণ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
এ সময় রিফাত আরো বলেন, আমি যেখনেই যাচ্ছি সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছি, সকলেই একটি পরিবর্তন চায়, রিফাত বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য অনেক অনুদান এনে দিয়েছেন, সাবেক মেয়র সাক্কু সেই টাকার অপব্যবহার করেছেন। নগরীতে অপরিকল্পিতভাকে নিম্ন মানের কাজ করেছেন। কুমিল্লাবাসী আজ সাবেক মেয়র সাক্কুর দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি ১৫ জুন নির্বাচনে সকলকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলেন।

মনিরুল হক সাক্কু :

কুমিল্লা সিটির সাবেক মেয়র ও ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন , নির্বাচন করতে এসে রিফাত সাহেব বুঝতে পারছেন বাস্তবতা এত সহজ না। গাড়িতে বসে বসে গণসংযোগ করে ভোটের মাঠে এসে বুঝতে পারছেন নৌকার কোন ভোট নেই। এজন্য তিনি পাগলের প্রলাপ করছেন। উনার উচিত, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগন্ডা না করে নিজের কি কি যোগ্যতা আছে সে গুলো ভোটারদের কাছে বলা। যাতে ভোটাররা বুঝে শুনে তাকে ভোট দিতে পারে। উনি ( রিফাত সাহেব) সকাল বেলা উঠেই আমারে বকতে শুরু করেন। আমারে বকলে কি ভোট বাড়বে না কমবে । এই সহজ কথাটাও উনি বুঝে না।
রোববার দুপুরে নগরীর ২২নং ও ২৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করার সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন কানাডাতে আমার কোন বাড়ী নেই যদি । কেউ প্রমাণ করতে পারে তা হলে সেটি আমি তাকে দান করে দিব। অপর দিকে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি ফেনিতে বিশাল মার্কেট বানিয়েছেন এগুলো আমি বলতে চাইনা।

কুসিকের সাবেক মেয়র আরো বলেন,কে ভালা আর কে খারাপ এটা ১৫ জুনই বুঝা যাবে । এই ভালা খারাপের বিরুদ্ধে রায় দিবে জনগন। রিফাত সাহেব দূর্নীতি গ্রস্থ বলল না বলল এটা আমার কাছে আলোচনার কোন বিষয় না। আমি জনতার সাক্কু এটাই আমার কাছে বড়।

নিজাম উদ্দিন কায়সার :

অপর স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেছেন, মনিরুল হক সাক্কু আর আরফানুল হক রিফাত দুই জনই কুমিল্লার সদর আসনের এমপি বাহার সাহেবের কর্মী। রিফাত সাহেব এ টিম আর সাক্কু সাহেব হলো এমপি সাহেবের বি টিম। সুতরাং সচেতন কুমিল্লার জনগন কোন নেতার লেজুরবৃত্তি করা এ টিম কিংবা বি টিমকে ভোট দিবে না। তারা চায় মেরুদন্ড সোজা করে চলা একটি স্বতন্ত্র টিম। আল্লাহর রহমতে ইতিমধ্যে প্রিয় কুমিল্লাবাসীর কাছে এই দুই জনের বাহিরে গিয়ে একজন পরিচ্ছন্ন প্রার্থী হিসেবে নিজকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। কুমিল্লার মানুষ এমন একজন মেয়র চায় যে কি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিবে । কোন নেতা কিংবা বড় ভাইয়ের মুখের দিতে তাকিয়ে থাকবে না। আজ আমার দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী একে অপরকে মাদক ব্যবসায়ী বলে। এ সকল কথা শুনে নগরবাসী লজ্জা পায়। আল্লাহর রহমতে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে শপথ নেয়ার আগেই কুমিল্লা নগরীকে মাদকমুক্ত করব ইনশাআল্লাহ্ ।