কেজি প্রতি ২৬ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের চারাপিটা মরিচ উৎপাদন করে দেশে হৈ চৈ ফেলে দিলেন কুমিল্লার সৌখিন কৃষক জামিল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

আহমেদ জামিল। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও গত ১০/১৫ বছর ধরেই জাতীয় ভাবে তিনি ব্যাপক আলোচিত একজন সৌখিন কৃষক হিসেবে। একেক সময় একেক ধরনের সবজি উৎপাদন করে তিনি শিরোনাম হয়ে যান স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তিনি সখ করে বিভিন্ন নতুন এবার তিনি দেশের গন্ডি পেরিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশে^র অন্যতম শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও। বিশে^ব সবচেয়ে দামী কাঁচা মরিচ উৎপাদন করে তিনি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত সৌখিন কৃষকে পরিণত হয়েছেন। এই কাঁচা মরিচের কেজি ২৬ হাজার মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন তিনি। আহমেদ জামিলের ভাষায়, চারিপাটা কাঁচা মরিচ উৎপাদনে আমি শুধু বাংলাদেশেই না , আমারিকাতেও প্রথম।
সোমবার(২৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুর পাড়ায় তাঁর নিজস্ব বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, বাসার সামনের এক কর্ণারে আরেকটি বাসার সানসেটের নিচে মরিচ সমেত তিনটি গাছ সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে মাটি ভর্তি তিন খোলা বস্তায়। মরিচগুলো দেথতে একেবারে কিছুটা সরিষার মত বা তার চেয়ে একটু বড় হবে। তবে রংটি হলুদ বর্ণের হলেও গাছের পাতা গুলো সবুজ প্রকৃুতির। যেমনটা রয়েছে আমাদের দেশীয় কাঁচা মরিচ গাছের মতই।
চারাপিটা কাঁচা মরিচ এর উৎপত্তিসহ বাংলাদেশের কিভাবে নিয়ে আসলেন জানতে চাইলে আহমেদ জামিল বলেন,আমি দীর্ঘ দিন ধরে গুগলে খোঁজ নিচ্ছিলাম নতুন কিছু পাই কি না। হঠাৎ করে একদিন আমার চোখে পড়ল চারাপিটা কাাঁচা মরিচের। পরে এ নিয়ে আবার নেটে ঘাটাঘাটি করে দেখলাম এটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে হয়। পরে চারা পিটার বিচি বা বিজ সংগ্রহ করার সংগ্রামে নেমে পড়ি। বেশ কয়েক মাস চেষ্টা করে অবশেষে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম বিচি পেরু থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। পরে আমি রোপন করি। কিন্তু তিন মাস অপেক্ষা করার পরও একটি চাড়াও কুমিল্লায় হয়নি। পরে ভাবছি এই কাঁচা মরিচ হয়তো আমাদের দেশের জন্য উপযোগী না। এরপর একশটি বিচি আমার এক স্বজনের কাছে আমেরিকা পাঠাই। তিনি ১০০টি বিচি রোপন করলেও এতে চারা হয় মাত্র ৫টিতে ।এরপর তিন মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ ভাবে ফল পরিপক্ক হয়। আমি প্রায় প্রতি দিনই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমেরিকাতে ঐ চারিপাটা কাচা মরিচের গাছ গুলো পরিচর্যা করতে থাকি। এক পর্যায়ে কাচা মরিচ গুলো পরিপক্ক হয়। তখন সে আমার জন্য বিজ পাঠায়। ভাগ্যের কি গুণ, পেরু থেকে আনা বিচিতে আমার এখানে চারা না হলেও আমেরিকাতে হয়েছে। এর আগে আমেরিকায় এই কাঁচা মরিচ আর উৎপাদন হয়নি। সেই হিসেবে আমেরিকাতেও এই মরিচ উৎপাদনে আমি প্রথম। পরবর্তীতে আমিরাকা থেকে বিচি বাংলাদেশে এনে আবার আমার এখানে রোপন করি। আল্লাহর রহমতে এবার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই চারা উঠে। ৫০টি বিচি থেকে ৫টিতে চারা হয়। এর মধ্যে ২টি মারা যায়। এখন এই ৩টি টিকে আছে এবং মরিচও ধরেছে , জানালেন মৃদু হাসি দিয়ে আহমেদ জামিল। বিচি লাগানো থেকে কাচা মরিচ উৎপাদন পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় তিন মাস।


এর পরিচর্যা সম্পর্কে জানতে চ্ইালে সৌখিন কৃষক আহমেদ জামিল বলেন, এটি বৃষ্টি পেলে মারা যাবে। সব সময় রোদে রাখতে হবে। বাহিরে খোলা স্থানে উপরে গ্লাস সিস্টেম করতে হবে। যাতে বৃষ্টির পানিতে সমস্যা না হয়, আবার রোদও যাতে পায়। এই গাছটি খুবই সেনসিটিভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব যত্ম নিতে হবে। সামান্য সমস্যা হলেই গাছটি টিকিয়ে রাখা যাবে ন্ া
গাছটির গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ গুলো প্রায় বুক সমান হয় এবং গোলাকার আকৃতির। মরিচগুলো দেখতে খুবই ছোট হইলেও খেতে খুব্ই মজা। তুলনামূলকভাবে জ¦াল কম হলেও এটি খুবই সুস্বাধু এবং সুগন্ধি জাতীয় সালাদ।খাবারের সালাদ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রত কেজি ২৬ হাজার মার্কিন ডলার দাম। এটি সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে। দেশের বাহিরে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে কোটিপতিদের খাবারের তালিকায় সাধারণত এটি শোভা পায় বলে জানান তিনি। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের খাবারের তালিকায় এই মরিচ খাবারের জৌলুস বাড়াতে ভুমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এটি বানিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে সৌখিন কৃষক আহমেদ জামিল বলেন,এটি অত্যান্ত ব্যয় বহুল এবং আমাদের মাটির জন্য পুরোপুৃরি উপযোগী কি না আরেকটু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রূী ও কৃষি মন্ত্রী যদি সহযোগিতা করেন তাহলে চারি পাটা কাঁচা মরিচ চাষ হতে পারে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রনালয়ের প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর ( পার্টনার) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আহমেদ জামিল সাহেবের চারাপিটা মরিচ সম্পর্কে জেনেছি। আমাদের দেশের মাটির সাথে এটা উপযোগি কিনা আরো গবেষনা করে দেখে ত হবে। তবে মরিচের যে দাম বলা হচ্ছে সেই দাম সম্ভবত এখন আর নেই। এখন দাম অনেক কমে গেছে। আর এই মরিচটি শুকিয়ে বিক্রি করতে হয়। প্রায় দুই হাজার শুকনা কাঁচা মরিচ এক কেজি হয়। আর মরিচের আকৃতিসহ গাছের বিভিন্ন ধরনটি দেখেছি। পেরুর মুল চারিপাটা কাঁচা মরিচের সাথে সব কিছুই মিল আছে। তবে এখনই এটি সম্পর্কে খুব বেশি বলা যাবে না। সবে মাত্র আসলো। এখন গবেষনা চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে বলা যাবে।