খুবই শান্ত স্বভাবের ‘বস’!

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউপির টনকি কাজী বাড়ির মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে প্রবাসী কাজী রকিব উদ্দিন।

শখের বসে তিনি একটি শাহী আওয়াল জাতের ষাঁড় লালন পালন করছেন। ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। লাল রঙের ষাঁড়টির বয়স সাড়ে ৩ বছর, ওজন ১২ মণ।

আদর করে ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘বস’। ‘বস’ এর দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। আকৃতি বেড়ে উঠলেও ‘বস’ খুবই শান্ত স্বভাবের। এরই মধ্যে ‘বস’ এলাকায় বেশ সারা ফেলেছে। ‘বস’কে দেখতে লোকজন ভিড় করছেন। রকিব উদ্দিন ষাঁড়টি কোরবানির ঈদে বিক্রি করবেন বলে জানান।

কাজী রকিব উদ্দিন জানান, ২ বছর আগে ৬২ হাজার টাকায় গরুটি কেনা হয়। এরপর দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করছেন। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করার ফলে এর আকৃতি বাড়ছে। দিনে দিনে ‘বসে’র ওজন বেড়ে এখন ১২ মণ।

১২ মণ ওজনের ষাঁড়

১২ মণ ওজনের ষাঁড়

ঘোলখার গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অতি যত্ন সহকারে গরুগুলোকে লালন পালন করা হচ্ছে। দিন-রাত বসের অতিরিক্ত যত্ন নেয়া হচ্ছে। গরুর শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে দিনে দুই বার গোসল করানো হচ্ছে।

রকিব উদ্দিন জানান, কোনো প্রকার ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস, খৈল ভূষি, চালের কুড়া, ভুট্টা, ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে লালন পালন করা হচ্ছে।

নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার ঘরে রাখা, তাপমাত্রা পরিমাপ রাখা ও রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়াসহ প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হয়। এই ষাঁড়টির দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কমবেশি হতে পারে ।

তিনি আরো জানান, এ ধরনের গরু লালন-পালন করা আসলেই খুবই কষ্টকর। বসকে আমার পরিবারের একজন সদস্য মনে করি।
উপজেলার আজমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া ও আলমগীর হোসেন বলেন, আসলেই গরুটি দেখতে খুবই সুন্দর। দু একদিনের মধ্যে গরুর দর দাম করা হবে।

পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার মো. ফারুক মিয়া বলেন, মানুষের মুখে যা শুনেছি এখানে এসে তাই দেখলাম।

টনকি গ্রামের মো. মিলন মিয়া বলেন, রকিব একজন সৌখিন মানুষ। গরু লালন পালনে তার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। শখ করে উন্নত জাতের গরুটি তিনি অতি যত্ন সহকারে গরু লালন পালন করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুয়েল মজুমদার বলেন, এ উপজেলায় অনেক লোকজন খামার করে উন্নত জাতের গরু লালন পালন করছেন। পশু মোটা তাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার বন্ধে খামারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তাছাড়া সব খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি খামারিদের সচেতন ও তদারকি করা হচ্ছে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য কৃষক ও খামারিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।