গুচ্ছে থাকছে কুবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

মহিউদ্দিন মাহি ।। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসির) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় বারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. আবদুল মঈন। তবে এ সিদ্ধান্তে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ইউজিসির সাথে উপাচার্যদের সভা শেষে অধ্যাপক আবদুল মঈন বলেন, শুধু আমরা নয়, অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ই গুচ্ছের পক্ষে মত দিয়েছেন। গুচ্ছ পদ্ধতিতে একবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র। কিছু সমস্যাতো ছিলই। আমরা অবশ্যই চ্যালেঞ্জগুলো জানিয়েছি। ভর্তি কার্যক্রমের দীর্ঘসময়, শিক্ষার্থী সংকট ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে গত ৩১ মার্চ সময় ও আর্থিক হয়রানি, আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষার্থী সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সভার এ সিদ্ধান্তর পর তাদের পদক্ষেপ কী এমন বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতির নানা অব্যবস্থাপনার কথা চিন্তা করে শিক্ষক সমিতি গুচ্ছতে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আমরা অধিকাংশ শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে না যেতে উপাচার্য মহোদয়কে লিখিত দিয়েছি। এখন যেহেতু গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুবি। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সকল শিক্ষকদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

এছাড়া ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশ নিচ্ছে কুবি’ এমন ঘোষণার পরপরই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক মক্তব্য করছেন তারা।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব মাহামুদ লিখেছেন, এবার শিক্ষার্থীদের হয়রানি আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আঞ্চলিক বিদ্যালয়ে পরিণত হওয়াটা কি উনারা দেখেন নি? চোখ কান বন্ধ করে এভাবেই চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করতে…।

এদিকে গুচ্ছভূক্ত পরীক্ষার পর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১০-১২ বার মেধাতালিকা প্রকাশ করেও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মোট আসনের প্রায় নয় শতাংশ খালি রেখেই নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সেসময় ৩০ মার্চ পর্যন্ত শূন্য আসনে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রেখে এরপর আসন ফাঁকা থাকলেও ভর্তির সময়সীমা আর বাড়াবে না বলে ঘোষণা দেয় প্রশাসন। তবে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করায় একমাস পর ৩০ মার্চ ফাঁকা আসনের সংখ্যা ১০ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় ফের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা বাড়িয়েছে কুবি। যদিও এরমাঝেই একবার ফাঁকা আসনের সংখ্যা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

আবার গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের। ফলে আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যাতম কাজ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ হারাচ্ছে কুবি।

আবদুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই যদি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থাকার কোন দরকার নেই। এর ফলে বরং এক একটি কলেজে পরিণত হচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এছাড়া বাড়তি ভোগান্তি, আর্থিক খরচসহ বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছুরা। তবুও গুচ্ছেই কেন থাকতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের-এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

শাহাদাত হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর কথা বলে গুচ্ছ পদ্ধতি শুরু করা হলেও এটি হিতে বিপরীত হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি, কষ্ট ও ভোগান্তি সবই বেড়েছে। তবুও কার স্বার্থে এ পদ্ধতি? তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় নিজের স্বাতন্ত্র্যতা হারিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সার্বিক বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ. এফ. এম. আবদুল মঈনের সাথে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং সবগুলোই আমি সভায় তুলে ধরেছি। কিন্তু যেখানে সবগুলো (গুচ্ছভূক্ত) বিশ্ববিদ্যালয় থাকছে সেখানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে একা বেরিয়ে আসা কিভাবে সম্ভব।

উপাচার্য আরও বলেন, তবে ইউজিসির সভায় সকল বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়গুলো সমাধানের পথ খুঁজছে তারা। ভোগান্তি লাঘব করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির বিষয়েও চিন্তা করছেন অনেকেই।

আসন ফাঁকা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একই সময়ে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দিয়ে এ উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হচ্ছে গবেষণা। সেজন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। এটি খুব একটি বিবেচ্য বিষয় নয়।