গোলাবাড়ির ঈদগায়ের জামাতে গুলিবিদ্ধর ঘটনায় তিন দিনেও আসামী গ্রেফতার নেই

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

#  এলাকাবাসীর মানবন্ধন

মাহফুজ নান্টু ।।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় ঈদের জামাতে স্থানীয় মোস্তাক আহমেদকে গুলি করার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত আসামী ধরতে পারে নি পুলিশ। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় গোমতীনদীর বেড়িবাধে মানবন্ধন করেন।

মানবন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে ঈদের আগের দিন মোস্তাকের বাড়িতে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় গোলাবাড়ি এলাকার রুবেল ভূইয়া ও তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় ওই বাড়িতে সবাই আতংকিত হয়ে পড়ে। পরে ঈদের সকালে ঈদের নামাজের আগে এ ঘটনার বিচার চাইলে ঈদের নামাজের জামাতে উপস্থিত রুবেল ভূইয়া কোমড় থেকে একটি পিস্তল বের করে প্রথমে একটি ফাঁকা গুলি করে। এ সময় উপস্থিত মুসুল্লিরা দ্বিগবিদ্বিগ দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। এর পরেই মোস্তাককে লক্ষ্য করে রুবেল আবার গুলি চালায়। মাটিতে পড়ে যাওয়ায় মোস্তাকের মাথায় গুলি লাগে নি। গুলিটি বিদ্ধ হয়েছে মোস্তাকের হাটুতে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অথচ আজ তিন দিন কোন আসামী ধরা পড়েনি। আমরা এই ঘটনার আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।

মানবন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা চিকিৎসক সাইদুর রহমান, কাবিলুর রহমান, ইউসুফ মিয়া ভূইয়া, ইকরাম হোসেন প্রমূখ। মানবন্ধনে অংশ নেয়া সবার দাবি আসামী রুবেল ভূইয়ার বিরুদ্ধে আগেও মামলা আছে। এখন আবার একজনকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি চালিয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হউক। মানবন্ধনের পরে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রুবেলের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এদিকে আসামীদের গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, ঘটনার পর পরই আসামীরা আত্মগোপনে রয়েছে। ঘটনাস্থল সীমান্তবর্তী এলাকা। আসামীরা যেন কোন ভাবেই সীমান্ত পার হতে না পারে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। আশা করি খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ঈদের দিন সকাল ৮ টায় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৫ নং পাঁচথুবী ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে গোলাবাড়ি ভূঁইয়া বাড়ি জামে মসজিদ ঈদগা মাঠে ঈদের জামাতে পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় রুবেল ভূইয়া এই এলাকার মোস্তাক আহমেদকে গুলি করেন। এ সময় স্থানীয় মোস্তাককে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পলাশ বিশ্বাস বলেন, গুলিবিদ্ধ মোস্তাকের পায়ে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়েছে। রক্ত দেয়া হয়েছে। এখন শংকামুক্ত।
এ ঘটনায় মোস্তাকের বড় ভাই ইকরাম কবির ভূইয়া বাদি হয়ে ওই দিনই ৯ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় প্রধান আসামী করা হয় রুবেল ভূইয়াকে । এছাড়াও অন্যান্য আসামীরা হলেন জসিম উদ্দিন ভূইয়া, সবুজ ভূইয়া, জাকির হোসেন ভূইয়া, আবদুর রব ভূইয়া, মনজিল ভূইয়া, নয়ন ভূইয়া, মিন্টু ভূইয়া, ফখরুল হাসান চৌধুরী।