ঘড়িতে ১১টা বাজলেই রানার কাছে ছুটে আসে ২০০ শালিক

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ভালোবাসা হলো এক অমোঘ শক্তি। ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু জয় করা যায়। এমনকি ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বনের পাখিরাও মানুষের কাছে ছুটে আসে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পাখির প্রতি ভালোবাসার এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাখিপ্রেমী মনিউর রানা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধার্ত পাখিগুলো ছুটে আসে রানার কাছে। তখন রানা স্নেহ-ভালোবাসায় খাবার তুলে দেন ক্ষুধার্ত শালিক পাখিদের মুখে।

রানার আতিথেয়তায় তার সঙ্গে এখন দুইশ শালিকের ভাব জমেছে। রানার সঙ্গে শালিকদের এমন সখ্যতা এলাকাবাসীরও মন কেড়েছে। গত তিন বছর ধরে অসংখ্য শালিক পাখিকে খাইয়ে আসছেন রানা। করোনা মহামারির শুরু থেকে অদ্যাবধি পাখিদের খাবার দেওয়া একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। প্রথম দিকে নিয়মিত ১৫-২০টি শালিক পাখি খাবার খেতে আসলেও বর্তমানে ওই শালিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০।

jagonews24

প্রতিদিন এক প্রকার নিয়ম করেই বেলা ১১টার দিকে খাবারের জন্য শালিক পাখিগুলো জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈদ্যুতিক লাইনের তার এবং দোকান ঘরের কার্নিশে সারি বেঁধে বসে কিচিরমিচির শব্দ করে ডাক শুরু করে। রানা বুঝতে পারেন পাখিগুলোর ক্ষুধা পেয়েছে। এ সময় তিনি পাখিদের জন্য চানাচুর, বিস্কিট, পাউরুটি, মুড়ি, আর পরোটার টুকরো ছড়িয়ে দেন তার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের সামনে। মুহূর্তেই বিদ্যুতের তার আর দোকানের কার্নিশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক উড়ে এসে মনের আনন্দে খাবারগুলো খায়।

নির্ভয়ে খাবার খেয়ে আবার চলে যায় পাখিগুলো। দেখলে মনে হবে পাখিগুলো রানার বেশ পরিচিত ও আপন। টানা তিন বছর ধরেই তিনি নিজের উপার্জিত টাকার একটি অংশ থেকে পাখিদের খাবার খাওয়াচ্ছেন। পাখি আর রানার এমন সম্পর্ক দেখতে প্রায় সময়ই ভিড় জমান এলাকাবাসী।

মনিউর রানার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার দৈালতদিয়াড় পাড়ায়। তিনি ২০ বছর যাবদ জীবননগর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রানা এক্সরে নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান।