চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তম ব্যাচের ‘বন্ধন-১৭’ এর প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী কুমিল্লায়

জাহিদ হাসান নাইম
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ‘বন্ধন-১৭’ এবার আয়োজন করা হলো এক উষ্ণ, আবেগমাখা পরিবেশে। ‘পুরোনো দিনের গল্প, পুরোনো হাতের স্পর্শে, জেগে উঠুক প্রাণ’— এই হৃদয়স্পর্শী স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (২৯ নভেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর লালমাই হলরুমে দিনব্যাপী এই আয়োজনে মিলিত হন প্রায় ২০০ জন সাবেক শিক্ষার্থী। তারা সবাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তম ব্যাচের (১৯৮১-৮২ সেশন) শিক্ষার্থী বন্ধু, যাদের বয়স এখন কারো ৬০-এর ঘরে, কারো আরও বেশি; কিন্তু বন্ধুত্বের টানে তারা ফিরে এসেছেন সেই যৌবনের দিনগুলোতে।

 

কুমিল্লার ১০ জন বন্ধুর উদ্যোগে আয়োজিত এই পুনর্মিলনীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও মূল পরিকল্পনায় ছিলেন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাবেক ব্যাংক নির্বাহী কাজী ফখরুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় দায়িত্ব পালন করেন একই ব্যাচের কুমিল্লার দুই বন্ধু শিউলি এবং সেলিম সোলায়মান। সকাল ৯টায় সকলে একসঙ্গে নাশতা সেরে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর বার্ড প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী। অংশগ্রহণকারীরা দেশাত্মবোধক গান গাইতে গাইতে র‍্যালী সম্পন্ন করেন, যা পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

 

র‍্যালী শেষে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতেই প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে সকলেই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে মঞ্চপর্ব শুরু হয়। পরে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর সঙ্গীতানুষ্ঠান, যেখানে শিল্পীর সুর আর বন্ধুরা একসঙ্গে গান গেয়ে ও নেচে মুহূর্তগুলোকে করে তুলেন আরও প্রাণবন্ত।

 

দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। ক্ষুদে নৃত্যশিল্পীদের নাচে অতিথিরা মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে আয়োজিত হয় র‍্যাফেল ড্র, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বাড়িয়ে তোলে উত্তেজনা ও আনন্দ। সমাপনী সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই প্রাণের উৎসব।

 

পুরনো বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবেক এই শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা সারা জীবন নানা ব্যস্ততায় ছুটেছি, কিন্তু আজকের এই মিলনমেলা আমাদের সেই পুরোনো সময়কে আবার ছুঁয়ে দিল। মনে হচ্ছে আমরা যেন আবার ক্যাম্পাসেই ফিরে গেছি। বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না। আজকের এই আড্ডা আমাদের মনে করিয়ে দিল, সময় বদলায়, কিন্তু বন্ধন বদলায় না।

 

বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর উচ্ছ্বাসে ভরা এই পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠানই নয় বরং ছিল জীবনের দীর্ঘ পথচলায় হার না মানা বন্ধনেরই এক অনন্য উদযাপন।