চরম বিতর্কিত ও অসাংগঠনিক ভাবে নির্ধারিত ভোটার তালিকা দিয়ে অগ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

কুমিল্লা প্রেস ক্লাব
শাহাজাদা এমরান
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে রইলো !
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের ইতিহাসে চরম বিতর্কিত ও অসাংগঠনিক ভাবে নির্ধারিত ভোটার তালিকা দিয়ে অগ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর দায় কোন ভাবেই নির্বাচনের জন্য গঠিত ইসির নয় , এর সকল দায় কুমিল্লার সকল পেশাদার সাংবাদিকদের।
প্রতিটি সংগঠনের সদস্যপদ দেয়া বা বাদ দেওয়ার একটি গঠনতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে। পেশী শক্তির জোড়ে গঠনতন্ত্রকে পদদলিত করলেও কিন্তু লোক দেখানো ভাবে হলেও অনেক সংগঠন সাজানো কিছু একটা করে , যাতে মানুষকে বোকা বানানোর জন্য বুঝ দেওয়া যায়।
কিন্তু আমার দ্বিতীয় ঘর কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের বর্তমান নেতৃত্ব সেই কাজটুকুও করেননি।আড়ালে আবডালে শুধু একজনের(তৃতীয় ব্যক্তি) উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দিয়েই দায় সারতে চাচ্ছেন। এটা আপনাদের নতজানু পেশাদারিত্ব।
আমার ২৯ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বের কথা আজ না ই বা বললাম। বাদ দিলাম আপনাদের চরম বিতর্কিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অসংখ্য পেশাদার সাংবাদিকদের কথাও। কিন্তু বৃহত্তর কুমিল্লার তিন জেলার পাঠক নন্দিত পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের কুমিল্লা’।যেই পত্রিকাটি ২০০৮ সালে আত্মপ্রকাশ করার পর ছুটি ছাড়া একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি । এমনকি করোনাকালীন সময়ে যখন কুমিল্লার সকল স্থানীয় পত্রিকাসহ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকাও বন্ধ ছিল , তখনও কিন্তু ঝুঁকি আছে জেনেও আমাদের কুমিল্লা এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি ।
সেই আমাদের কুমিল্লা থেকে কি একজন সাংবাদিকও ভোটার তালিকা কিংবা সদস্যপদে অন্র্তভূক্ত হতে পারে না। নগরীর অন্যতম একটি দৈনিক পত্রিকাকে বাদ দিয়ে এবং অসংখ্য পেশাদার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে সাজানো ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন করলেই কি আপনারা আস্থা অর্জন করতে পারবেন ?
মনে রাখবেন, কুমিল্লার প্রেস ক্লাবের ইতিহাসে এটি একটি কলংকজনক নির্বাচন হয়ে থাকবে। এর দায় পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে আমাদের সবাইকেই নিতে হবে।ইতিহাস আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না। যদিও আমরা জানি , ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম শিক্ষা হলো , ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। যখন শিক্ষা নেয় , তখন আর করার কিছু থাকে না।
বি.দ্র. সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রেস ক্লাব নিয়ে আমি আর কোন পোস্ট দিব না। কিন্তু দিতে বাধ্য হলাম এই জন্য যে, সাজানো ভোটার তালিকা দিয়ে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যারা প্রার্থী হচ্ছে তাদের অধিকাংশই আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, ভাই, আপনার (কেউবা তোমার) প্রতি যে অবিচার করা হচ্ছে যদি নির্বাচিত হতে পারি আপনি সহ জোড় পূর্বক বাদ দেওয়া সকল সদস্যদের ফিরিয়ে আনব, দোয়া করেন, সহযোগিতা করবেন।
আমি আড়ালে মুচকি হেসে বলি, ভাইরে এর আগে প্রায় একই বিষয়ে আরো দুটি পোস্ট দিয়েছিলাম সেখানে নূন্যতম মন্তব্য করার মত তোমরা সক্ষমতা অর্জন করতে পারনি। সেখানে নির্বাচিত হয়ে তোমরা কি করবা তা তো বুঝতেই পারি।
স্পষ্টত্ব বলছি , আমার জন্য করার দরকার নেই , সাজানো ভোটার তালিকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে দয়া করে নিজেদের পেশাদারিত্বের ব্যক্তিত্বটা ধরে রাখিও বা ধরে রাখিয়েন তাহলেও আমি ঢেড় খুশি হবো।
লেখক : সাবেক দুই বারের অর্থ সম্পাদক, কুমিল্লা প্রেস ক্লাব।
১৭.০৭.২০২২ ইং।