চৌদ্দগ্রামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সচিব অবরুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি ।। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এটিএম কবিরের বিরুদ্ধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা, ইউপি হোল্ডিংয়ের আদায়কৃত অর্থ ও ট্রেড লাইসেন্সের অর্থ আত্মসাতসহ নানান ধরনের অনিয়মের অভিযোগে রোববার দুপুরে তাকে ইউপি কার্যালয়ে পরিষদের সদস্যরা অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটিএম কবির ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন পরিষদে সচিব হিসেবে যোগদান করে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২০-২১ অর্থ বছর পর্যন্ত সচিব কবির ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্সের ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার হিসাব গড়মিল করেছে। এছাড়াও ২০২১ সালের ১৭ জুলাই থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্সের ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আদায় করে হিসাব প্রদান করেননি। বিগত সাড়ে ৫ বছরের ইউপি সদস্য ও পরিষদের চেয়ারম্যানদের পরিষদের থেকে আদায়কৃত সম্মানীভাতার ২৬ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। এছাড়াও তিনি জন্মনিবন্ধন সংশোধনীর নামকরণ করে গ্রাহকদের থেকে বিপুল সংখ্যক অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, সচিব এটিএম কবির চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে নিজেকে চেয়ারম্যানের উর্ধ্বে অধিক ক্ষমতা জাহির করতো। তিনি আমাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদত্ত সম্মানী ভাতা প্রদান না করে আত্মসাত করেছে। ভাতার কথা জানতে চাইলে আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি প্রদান করতো।
৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান অসুস্থ্য থাকাকালিন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু কাগজে স্বাক্ষর করে সচিবের হাতে বুঝিয়ে দেন। এ সুযোগটি সচিব কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর দিয়ে তিনি পরিষদের বিভিন্ন টাকা আত্মসাত করছেন।
৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আহাদ মজুমদার শিল্টু বলেন, সচিব থেকে আমরা ভাতার টাকা চাইলে তিনি বলতো, ইউপির অংশের কালেকশান হয় নাই। অথচ আদায়কারী আমাদেরকে জানাতো নিয়মিত টাকা আদায় করেই সচিবের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার আমরা তাকে আমাদের সম্মানী ভাতা বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি আমাদের উপর ক্ষীপ্ত হলে সকল সদস্যরা তাকে অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হয়’।
জগন্নাথদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম ভুঁইয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য ছিলাম। পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমার প্যাড এবং বেশ কিছু সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। সচিব আমার এ স্বাক্ষরগুলোকে নানা অনিয়মের কাজে ব্যবহার করেছে। এছাড়াও হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স থেকে আদায়কৃত অর্থ এবং আমিসহ ইউপি সদস্যদের পরিষদ থেকে দেওয়া সম্মানী ভাতা সচিব আত্মসাত করেছে। এ বিষয়ে তার থেকে প্রায় সময় হিসাব প্রদান করতে বললে তিনি নানান টালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করে। জন্মনিবন্ধন নিয়েও সে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। রোববার তাকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমার সাথে অসদাচরণ করলে পরিষদের সদস্যরা তাকে অবরুদ্ধ করে।
অভিযুক্ত সচিব এটিএম কবির বলেন, ‘চেয়ারম্যান যা বলেছে, এর উপর আমার কোন কথা নেই’।
ঊপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, ‘সচিবের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে চেয়ারম্যানকে আমার কাছে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলেছি এবং সচিবকে ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।