চৌদ্দগ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টায় হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বায়না কবলা সূত্রে মালিকানা নিশ্চিতের পর ২২ বছরের দখলীয় জায়গা জোরপুর্বক দখলের চেষ্টায় দু’দফা হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে সুজন (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের বলহরা গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। গত শনিবার সকালে একই ইউনিয়নের বলহরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগি আবুল হাশেম। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগির পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় জিডি করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তদন্ত সাপেক্ষে এবং ভুক্তভোগি কর্তৃক ১৪৫ ধারায় আদালতে দায়েরকৃত একটি মামলার (নং ৮৩৫/২৩) আদেশের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করে পুলিশ। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৪ জুন উপজেলার ব্রহ্মপুর মৌজার সাবেক ১১৮৯ ও হালে ১৫০৩ দাগে সর্বমোট ১৫ শতক জায়গা করিমুন নেছা প্রকাশ করফুলের নেছার নিকট থেকে বলহরা গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী হোসনেয়ারা বায়না দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দখলদার স্বত্ত্ববান হন। এরপর থেকে ক্রয়কৃত জায়গার পূর্ব অংশে পুকুর খনন ও পশ্চিম অংশে দালানঘর নির্মাণ (যার সাবেক হোল্ডিং ১৫৩, বর্তমান অনলাইন হোল্ডিং নং ৪৯৮) হোসনেয়ারা তার পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন। গত শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া কতিপয় বহিরাগত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে বাড়ীঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা হোসনেয়ারার দখলীয় ভূমির (বসতবাড়ীর) সীমানা প্রাচীর (টিনের বেড়া) ভাংচুর ও গাছপালা কর্তন সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে জায়গাটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগির স্বামী আবুল হাশেম আগের জিডির আলোকে থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। এর আগেও সুজন মিয়া একই কায়দায় হোসনেয়ারার বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকদফা শালিস বৈঠকেও বিষয়টির মীমাংশা না হওয়ায় ভুক্তভোগি আদালতের স্মরণাপন্ন হন। আদালত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া জায়গার মূল মালিক করিমুন নেছার ভাই মফিজুর রহমানের মাধ্যমে মালিকানা দাবি করে কয়েক দফায় বিবাদমান জায়গার কিছু অংশ খারিজ আবেদন করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা বাতিল করে দেন। এরপরও সুজন বিভিন্ন কলাকৌশলে হোসনেয়ারার পরিবারকে হয়রানি ও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে।

এ বিয়য়ে ভূক্তভোগির স্বামী আবুল হাশেম বলেন, ‘২২ বছর আগে জায়গা কিনে বসতভিটা তৈরী ও ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছি। এখন আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন মিয়া বিভিন্নভাবে আমাদেরকে বারবার হয়রানি করছে। গত শনিবার সে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষিদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

বলহরা গ্রামের হাবিল মিয়া ও মহসিন বলেন, ‘২২ বছর ধরেই দেখছি আবুল হাশেম এ জায়গায় বসবাস করছে। জায়গাটি সুজনের বাবা আব্দুল মতিনই তাদেকে ক্রয় করে দিয়েছেন। ২০১২ সালে বায়না দলিলও সম্পন্ন হয়েছে। এখন সে জমি বিক্রেতার ভাই মফিজের সহযোগিতা ও স্থানীয় কিছু খারাপ লোকের কু-পরামর্শে আবুল হাশেমকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। শুনেছি শনিবারে সুজনই আবুল হাশেমের টিনের বেড়া ভাংচুর করেছে স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করার পরও মীমাংশা না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল দিলে অভিযুক্ত সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আপনারা যা মনে চায় তাই লেখেন।’ এরপর তিনি কলটি কেটে দেন। পরে তাকে বারবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘আবুল হাশেম তার মামা শ্বশুর আব্দুল মতিনের মাধ্যমে করিমুন নেছার নিকট থেকে তার স্ত্রী হোসনেয়ারার নামে ১৫ শতক জায়গা ক্রয় করে। আব্দুল মতিন জীবিত থাকাবস্থায় করিমন নেছা ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ক্রয়কৃত জায়গার দখল বুজিয়ে দিলে আবুল হাশেম সে জায়গায় বাড়ীঘর নির্মাণ করে দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ বসবাস করছে। জায়গা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আমি নিজেও স্বাক্ষী ছিলাম। এখন আব্দুল মতিনের ছেলে সুজন আবুল হাশেমকে হয়রানি করছে।’