# মানুষের পেট ভরে না সমালোচনায়, পরিকল্পনা জানতেই ভোটাররা আগ্রহী – তারেক রহমান
# অভিজ্ঞতা থেকেই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি, তাই অন্যদের হিংসা হচ্ছে – তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের জন্য গ্রহণ করা পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই, কারণ রাজনীতি করতে হলে শেষ পর্যন্ত জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হয়। অভিজ্ঞ দল হিসেবেই বিএনপি জানে কোন পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময়, তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দল বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে মা-বোনদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এখানে একবারো একবারে সবকিছু দেওয়ার কথা বলিনি। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে অন্তত সাত দিনের প্রয়োজন মেটানোর মতো সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের কাছে।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরে যত বেশি সংখ্যক মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই বিএনপির লক্ষ্য। এতে কোনো জটিলতা বা কৌশল নেই, বিষয়টি একেবারেই সরল। যারা এসব পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করছে, তারা আসলে মানুষের জন্য ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি বলেই হিংসা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চায় এবং এজন্য কৃষক কার্ড চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। তাই যা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবায়নের দায়ও বিএনপি নেবে।
এসময়, চৌদ্দগ্রামের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা হলেও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এখানকার খাল খননের কাজ শুরু করা হবে এবং চৌদ্দগ্রামে এসেই তিনি খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন বলে আশ্বাস দেন।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব প্রকট। বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকার তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যারা বিদেশে যেতে আগ্রহী, তাদের মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে আরবি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করলে এ বিদেশগামী তরুণদের উপকার হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারী উদ্যোক্তাদের বিষয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক মা ও বোন ঘরে বসেই নানা ধরনের পণ্য তৈরি করেন। তাদের খুঁজে বের করে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে এবং তাদের তৈরি পণ্য বিদেশে বাজারজাত করার ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে, তবে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এছাড়াও মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম ও খতিবদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের শুধু সম্মানীই নয়, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা বিকল্প পেশায়ও কাজ করতে পারেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি চাইলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। কারণ নির্বাচনের আগে দেশের মানুষ জানতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তিনি কী করবেন। অন্যের সমালোচনায় মানুষের পেট ভরে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পরিকল্পনাগুলো জনতার পছন্দ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে দর্শক সারি থেকে সমস্বরে হ্যাঁ ধ্বনি ওঠে।
পরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলতে থাকবে। কে কী বলল, তা নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয়। রাজনীতি করা হচ্ছে মানুষের জন্য, মানুষ ভালো থাকলেই ভবিষ্যতে সমর্থন পাওয়া যাবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন চাইলে আগামী বারোই ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় সভাপতির বক্তব্য দেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা ও বিএনপি জোট সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী নাহিদ৷ এ সময় জেলা এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।