চৌদ্দগ্রামে পানি কমছে , দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ years ago

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি ও ডাকাতিয়া নদীর পানি কিছুটা কমলেও লোকালয়ের পানি খুবই ধীর গতিতে নামছে। আবার পাশের উপজেলা লাঙ্গলকোট থেকে পানি এসে কয়েকটি প্লাবিত গ্রামে পানি বেড়েছে। দিন দিন বাড়ছে খাবারের জন্য হাহাকার, শুকনো খাবারের সাথে, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, দেয়াশলাই, শিশু খাদ্য, স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং বাচ্চাদের প্যাম্পারসের চরম সংকট। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহম উল্লাহ জানান এখনো লক্ষাধিকের উপরে লোকজন পানিবন্দি রয়েছে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায় টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা। বন্যার পানি কমছে ধীরগতিতে, লক্ষাধিকের উপরে মানুষ এখনো পানিবন্দি। বিভিন্ন সংগঠন, প্রবাসীরা শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করে খাবার দিচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে মানবতার জীবন যাপন করছে। পাশের উপজেলা ঢালুয়া সড়কে ডাকাতিয়া নদীর পানি বেড়েই চলেছে।এতে উপজেলার ছিলপাড়া, শাকতলা, ঘোরক মুড়া, সিওর, মনতলী, জামরুল, অষ্টগ্রাম, মদনপুর, সাতবাড়িয়া গ্রামে হু হু করে পানি বাড়তে থাকে,আতঙ্ক বাড়ছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা নারী পুরুষের মাঝে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানোর কারণে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। নৌকা, স্পীডবোট না থাকায় ভিতরের অধিকাংশ গ্রামে এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।
চৌদ্দগ্রাম করপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হোসনা আক্তার জানান আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় ত্রান দিতে গিয়ে দেখছি মানুষ এখনো পানিবন্দি, খাবারের সংকট রয়েছে। শিশুদের খাদ্য সমস্যা চরমে। ভিতরের গ্রাম গুলোর মানুষ ত্রান কম পাচ্ছে।
উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান বলেন ভিতরের গ্রামগুলোতে এখনো গলা পযন্ত পানি। এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ, নৌকা না থাকায় ত্রাণ নিয়ে কেউ ভিতরে গ্রামে যেতে পারছে না, যার কারণে মহাসড়ক থেকে ভিতরের গ্রামগুলোতে ত্রাণ যাচ্ছে না।
উপজেলার খিরশাল উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন তিন শতাধিক বানভাসি মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন শিশু। এদের মধ্যে ১ থেকে ৫ বছরের শিশু আছে অন্তত ৯ জন। বাকি সব ৫ থেকে ৭ বছরের। মুড়ি, শুকনো বিস্কুট ও কলা খাইয়ে কোনোরকম দিন পার করা গেলেও যাদের বয়স এক থেকে তিন বছরের মধ্যে সেসব শিশুদের খবার নিয়ে সমস্যা পড়েছ অভিভাবকরা। বিভিন্ন মাধ্যমে বড়দের জন্য খাবার এলেও শিশুদের জন্য খাবার আসছে না। মুড়ি-চিড়া, শুকনো বিস্কুটসহ বড়দের খাবার একেবারেই মুখে নিতে চায় না বাচ্চারা
ঘরবাড়ি হারিয়ে ওই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মাথা গুঁজেছেন উপজেলা চিওড়া ইউনিয়নে শাকতলা গ্রামে বাসিন্দা আবুল কাশেম মন্ডল জানান। তিনি জানান দুই ছেলে ও স্ত্রী আছেন সঙ্গে। পানি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিন যত যাচ্ছে, ভোগান্তিও বাড়ছে। খাবার নেই, পানি নেই। কিছু শুকনা খাবার খেয়ে বাঁচে আছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বন্যার পানি খুবই ধীরগতিতে নামার ফলে বন্যাকবলিত লোকজনের ত্রাণের চাহিদা বাড়াছে।শুকনো খাবারের সাথে মোমবাতি, দেয়াশলাই, শিশু খাদ্য, স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং বাচ্চাদের প্যাম্পারসের অনেক চাহিদা রয়েছে। তবে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে ত্রাণ সহযোগিতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার এখনো লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি।