‘জাতীয় নির্বাচন থেকেও উপজেলা নির্বাচনে বেশি ভোটার উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে কমিশন’

কুমিল্লায় নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

চলতি বছরের শুরুতে শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আরো বেশি নির্বাচন কমিশন প্রত্যাশা করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো.আনিছুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ উপলক্ষে ৬ জেলার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ইসি আনিছুর।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের থেকেও বেশি ভোটার উপজেলা নির্বাচনে উপস্থিত থাকবে বলে আমরা আশা করছি। সেটা বড় একটা পার্সেন্টেজ (শতাংশ) হতে পারে। সম্প্রতি কয়েকটি নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন তাপপ্রবাহের মধ্যেও ব্যাপক ভোটার উপস্থিত ছিল। এসব নির্বাচনে ৭৯ পার্সেন্ট (শতাংশ) পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল। এবারের নির্বাচন গুলোতেও ভোটারের উপস্থিতি ভালো থাকবে। সেজন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভোটের পরিবেশ প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমপি-মন্ত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহনের জন্য কারো আত্মীয়-স্বজনের বিষয়ে আইনে বলা নেই। আইনে বলা আছে, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং যিনি ভোটে অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পন্ন সে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আমরা জেনেছি অনেকের আত্মীয়স্বজন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আমরা গোয়েন্দা মাধ্যমে যে তথ্য পাই তাতে তেমন সমস্যা দেখি না। দুয়েকটি জায়গায় বিচ্ছন্ন সমস্যা রয়েছে, তা আমরা কঠোর নজদারিতে রেখেছি। যদি বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে আমরা তা মেনে নেব না। প্রয়োজনে আমরা নির্বাচন স্থগিত করবো, প্রার্থীতা বাতিল করার ব্যবস্থাও নিতে পারি। যেকোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অনিয়ম হলে ভোট বাতিল করার ক্ষমতাও আছে নির্বাচন কমিশনের।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো.তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নূরে আলম মিনা, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো.দুলাল তালুকদার প্রমুখ। সভায় কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে নির্বাচন কমিশনার তাদের বক্তব্য শুনেন এবং পরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে ইসি আনিছুর রহমান বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনে যেই মানের করেছি, উপজেলা নির্বাচনে আরো ভালো করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে যেই পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পালন করেছেন- এবার তার চেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ উপজেলা নির্বাচন কয়েকটি ধাপে হচ্ছে; এজন্য আমরা ফোর্স বেশি দিতে পারবো। আর যেসব উপেজেলায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে- সেসব এলাকায় আমাদের বাড়তি প্রস্তুতি থাকবে। কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম ও সহিংসতাকে ছাড় দেওয়া হবে না।