জীবনের দেনা পরিশোধে ট্রেনের ৭ টিকিট কাটলেন মাদরাসা শিক্ষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার জীবনের দেনা পরিশোধে ট্রেনের সাতটি আসনবিহীন টিকিট কেটে পূর্বে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণের টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলেন এক মাদরাসা শিক্ষক।

মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এসে এই যাত্রী পূর্ব ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা ভ্রমণের সাতটি আসনবিহীন টিকিট কেটে এক হাজার ১৫ টাকা পরিশোধ করেন। ঐ মাদরাসা শিক্ষকের নাম মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেরকুটা গ্রামের বাসিন্দা। আবুল হাসান একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা করেন।

জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রামের ট্রেনের আসনবিহীন টিকিট কেটে দুই হাজার ৫৩০ টাকা পূর্বের ভাড়া পরিশোধ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ মোড়াইল এলাকার মো. এমদাদুল হক। তিনি দুদকের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল। ঐ দিন দুপুরেই একটি ফেসবুক পেজে তাকে নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এমদাদুল হকের এ উদার মনোভাব দেখেই অনুপ্রাণিত হন মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান নামের ঐ মাদরাসা শিক্ষক। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে মো. এমদাদুল হককে সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা ভ্রমণের সাতটি আসনবিহীন টিকিট কেটে এক হাজার ১৫ টাকা পরিশোধ করেন।

মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, খুব কম সময়ই টিকিট বিহীন অবস্থায় ট্রেন ভ্রমণ করেছি। অনেক সময় ব্যস্ততা, ভিড় বা সময় স্বল্পতার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেনি। হিসাব কয়েকদিন হবে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে এমদাদুল হক রেলের পূর্বের ভাড়া পরিশোধ করেন। সেটা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। এমদাদুল হক আমার পূর্ব পরিচিত। মঙ্গলবার বিকেলে এমদাদুল হককে সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা ভ্রমণের সাতটি আসনবিহীন টিকিট কেটে এক হাজার ১৫ টাকা মূল্য পরিশোধ করেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর এমদাদুল হক দুই হাজার ৫৩০ টাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে আসনবিহীন টিকিট কেটে এই টাকা রেলওয়েকে প্রদান করেন। মঙ্গলবার সকালে এমদাদুল হক ফোন করে বলেন, তার পরিচিত একজন রেলের পূর্ব ভ্রমণের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করবেন। পরে তিনি বিকেলে মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা ভ্রমণের সাতটি আসনবিহীন টিকিট কেটে এক হাজার ১৫ টাকা মূল্য পরিশোধ করেন।