টমেটো চাষ করে সফল ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

#  মায়ের দেয়া ৪০ হাজার টাকা মূলধনই বদলে যায় ভাগ্য

রুবেল মজুমদার ।।

কৃষিকাজ করেও যে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান লাভ করে কয়েক বছর ধরে চাকরির জন্য ঘুরতে ঘুরতে যখন ক্লান্ত, ঠিক তখনি নিজ এলাকার এক বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে টমেটো চাষ শুরু করেন ।
টমেটো চাষ করে সফলতা পেয়ে স্বচ্ছলতা এসেছে রাসেলের পরিবারে। পরিবারের চার বোন ও দুই ভাইয়ের মাঝে সবার বড় তিনি।

জেলার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামে মাঠজুড়ে দৃষ্টিনন্দন টমেটো ক্ষেত তার। সারিবদ্ধ টমেটো গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত থোকা থোকা টমেটো শোভা পাচ্ছে। অনেকেই আবার তার টমেটো ক্ষেত দেখতে আসছেন। ক্ষেতে দাঁড়িয়ে কথা হয় টমেটো চাষি রাসেল আহমেদের সঙ্গে।

তিনি জানান, আমার কোনো আবাদি জমি নেই। করোনাকালীন সময় ২০২০ সালে মায়ের দেওয়া ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে প্রথম টমেটো চাষ শুরু করি। প্রথম বছর ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করে লাভ হয় ৬০ হাজার টাকা। পরের বছর ২০২১ সালে আবার ও ৪০ শতক জমিতে আবাদ করে তিনগুন লাভের মুখ দেখেন রাসেল।

বছরের অগ্রহায়ন ও পৌষ মাসে টমেটোর চারা রোপণ করেন। এ বছর তিনি ৪০ একর জমিতে আগাম জাতের টমেটো চাষ করেছেন। আড়ৎদারদের কাছে প্রতি কেজি টমেটো এখন গড়ে ২৫/৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা টমেটো এখন বাজারে পাওয়া গেলেও তার জমির টমেটোর চাহিদা বেশি পাইকারদের কাছে। এবছর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এরই মধ্যে বাজারজাতকরণ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন।

তিনি আশা করছেন, এখন দাম কিছুটা কম হলেও জমিতে যে পরিমাণ টমেটো আছে, তাতে বাজার মূল্য ঠিক থাকলে আরও লাখ টাকা পাওয়া যাবে।

রাসেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ দিন ধরে চাকুরীর পরীক্ষা দিতে দিতে নিজের জামানো সব টাকা শেষ হয়ে যায়। এক সময় হতাশ হয়ে যাই। পরিবারে বড় সন্তান হওয়ায় জীবনের সাথে যুদ্ধ করছি ছোটবেলা থেকেই। এক বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় ও মায়ের সহযোগিতায় টমেটো চাষে আমার পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পেলে উৎপাদন আরও বাড়াতে পারবো। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে ১০০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করতে চাই ।

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, অধ্যবসায় ও পরিশ্রম দিয়ে যে কেউ নিজের ভাগ্য বদলাতে পারে রাসেল তারই প্রমাণ। চাষিরা যাতে আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হতে পারেন সেজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হয়।