তিতাসে গোমতী নদী ভাঙনে হুমকির মুখে শত শত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নদী ভাঙনের কবলে কুমিল্লা তিতাস উপজেলা নারান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া। নদীর তীরবর্তী প্রায় ৪শত পরিবার নদীভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া প্রতিবছর শত শত বসতভিটা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যাবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দিশেহারা এখানকার শত শত পরিবার। টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গোমতীতে ক্রমশই বাড়ছে পানি। হুমকির মুখে রয়েছে দুই পাড়ের ৪শতাধিক বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। নারান্দিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে সিলেট থেকে নেমে আসা বন্যার প্রবল স্রোতের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নারান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এবং পশ্চিম পাড়ে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে ভাঙন।

সরেজমিনে দেখা যায় তিন তিন বার বসতভিটা হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেয়া, চাল চুলোহীন অসুস্থ ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগম শেষ সম্বল রক্ষার্থে দুই হাতের বগলতলে দুইটি স্ট্রেচার নিয়ে বার বার ঘর আর বাহির হচ্ছেন। আর সর্বক্ষণ আতংকে, অনিদ্রা, অনাহারে প্রহর গুনছেন সহায়, সম্বল, স্বামী ও পুত্র সন্তানহীন এই মনোয়ারা বেগম।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি কাশেম আলী (৮৫) জানান, প্রায় পঞ্চাশ বছর যাবৎ আমরা এই গড়া এবং ভাঙনের খেলা খেলছি। আমরা আর পারছিনা আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। ভাঙনের এই তাণ্ডব ছেড়ে হাজারো পরিবার অন্যত্র চলে গেলেও আমরা পারছি না আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে। আমাদের আপনারা বাচাঁন।

নারান্দিয়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের স্থানীয় মেম্বার ওমর ফারুক বলেন, গতকাল রাত ৯টায় বেলাল নামের এক ব্যক্তির ঘরসহ বসতভিটা কয়েক নিমিষেই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গত এক সপ্তাহের নদী ভাঙনে অনেকের বসতভিটা সহ জমিজমা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া প্রায়, ২শত পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙন ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় শত শত পরিবার ভাঙনের সম্মুখিন হতে পারে। নৌকা ছাড়া চলাচল দূরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, আমি পূর্ব ও পশ্চিম পাড় পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছি জরুরী ভিত্তিতে, বিভিন্ন পয়েন্টের মাধ্যমে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমাকে কিছুই জানাননি, না জানলে কিভাবে জানব। তবে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। দেখি কি করা যায়। আমরা কলাকান্দি ইউনিয়নের জন্য কিছু চাল বরাদ্ধ পেয়েছি। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে ব্যাবস্থা নিব।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এটিএম মোর্শেদ ঢাকার একটি মিটিংয়ে থাকার কারনে তাৎক্ষণিক কোন বক্তব্য দিতে পারেননি।