তেলের দামে দিশাহারা জেলেরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চরফ্যাশন উপজেলার ৫০ হাজারেও বেশি জেলে। শুক্রবার রাতে দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর শনিবার ভোলার বেশিরভাগ জেলেই নদীতে মাছ শিকারে যাননি।

চরফ্যাশন মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৪৪ হাজার ৩ শত ১১ জন। তবে নিবন্ধন ছাড়াও অনেকে এ পেশায় জড়িত।

সামরাজ মাছঘাটের জেলে মানিক মাঝি, বশির মাঝি, রহিম মাঝি, কলাম মাঝিসহ ১০-১২ জন জেলে জানান, তাদের একেকটি ট্রলারে ৮-৯ জন করে জেলে থাকেন। একবার নদীতে গেলেই একেকটি ট্রলারে দৈনিক খরচ হয় ৩-৪ হাজার টাকা। ইদানীং এই খরচ ওঠানো খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই হঠাৎ করে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তাই তারা নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক জেলে ট্রলার তীরে তুলে রেখেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নাছির মাঝি মাছঘাটের জেলে কাওছার মাঝি ও নুরনবী মাঝি আক্ষেপ করে জানান, নদীতে যে মাছ পাওয়া যায় সেগুলো বিক্রি করে একেকজনের ভাগে পড়ে ১৫০-২০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে একজন শ্রমিকের মূল্য ৫০০-৭০০ টাকা। এ রকম দফায় দফায় তেলের দাম বাড়লে জেলেদের না খেয়ে মরতে হবে।

জেলে হাসেম আলি জানান, শুক্রবার বিকালে ১০ লিটার ডিজেল ৮৫০ টাকায় কিনে নদীতে মাছ শিকারে গেছেন। সারা রাত ঘুরে ভোরে নদী থেকে এসে মাত্র ৫০০ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। আবার সকালে তেলের জন্য দোকানে গেলে দাম চাইছে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা। তাই তিনি বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

জেলেরা জানান, তেল ও অন্যান্য খাবারসহ কয়েক হাজার টাকার মালামাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যেতে হয়। কিন্তু নদীতে এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে কম, খরচের টাকাও ওঠে না। এ মুহূর্তে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা পরিবারসহ বিপাকে পড়েছেন।

হাজারি গঞ্জ ইউনিয়নের খেজুর গাছিয়া মাছঘাটের আড়তদার জাহাগীর জানান, তার আড়তে ১০-১২টি ট্রলার। লোকসানের কারণে আগে থেকেই অর্ধেক ট্রলার নদীতে যায় না। শনিবার একটি ট্রলারও নদীতে যায়নি। তিনি আরও জানান, এ ঘাটে দেড় শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। শনিবার মাত্র ১৫-২০টি ট্রলার নদীতে গিয়েও খরচের টাকা ওঠাতে পারেনি। এ রকম হলে দু-একদিনের মধ্যে বাকি ট্রলারগুলোও নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দেবে বলে ধারণা করছেন তিনি।