দেবিদ্বারে দুই কোটি টাকা নিয়ে উধাও আজিজ কো-অপারেটিভ কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

গ্রাহকের সঞ্চিত প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড নামে কুমিল্লা শাখার কর্মকর্তা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে টাকা জমা রাখা গ্রাহকরা।

অভিযুক্ত ঐ কর্মকর্তা আবদুস ছাত্তারের বাড়ি পাশের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার লাড়ুচৌ গ্রামে। কথিত ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কুমিল্লা জেলা শাখাটি পরিচালিত হতো কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এগার গ্রাম বাজার থেকে। ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা, গ্রাহকের কাছ থেকে ফিক্স ডিপোজিট ও ডিপিএস নামে টাকা গ্রহণ করেছে এটি। ২ বছর আগে এগার গ্রাম বাজারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শাখাটি বন্ধ রয়েছে দুদিন যাবৎ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মকর্তা আবদুস ছাত্তার পরিবার নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

বিধবা খোসনেয়ারা বেগম একমাত্র সন্তান নিয়া জীবন যাপন করছেন কোনো রকম। শেষ সম্বল জমানো দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন ঐ কর্মকর্তার খপ্পরে পড়ে। টাকা হারিয়ে এখন খোসনেয়ারা পাগল প্রায়। কান্না চোখে বলেন, ‘ আমার ছেলেকে নিয়ে আমি কি করবো, কই যাবো। আমার সব শেষ হয়ে গেছে ‘।

বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুগসাইর গ্রামের তাজুল ইসলাম। পেনশনের দুই লাখ টাকা শেষ সম্বল হিসেবে জমা রেখেছিলেন প্রতারিত প্রতিষ্ঠানটিতে। পেনশনের জমানো টাকা হারিয়ে তিনি এখন বাকরুদ্ধ। বলেন,’ বিশ্বাস করে টাকা জমা রেখেছিলাম। এভাবে প্রতারিত হবো বুঝতেও পারিনি’।

এগার গ্রাম বাজারের ফার্মেসি ব্যবসা করেন আবদুল কাদির। তিনি দুই নামে দশ লাখ জমা রেখেছিলেন। বলেন, ‘গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে টাকা জমা রেখেছে। এখন মানুষকে নিঃস্ব করে সে পালিয়ে গেছে’।
এমন কি করে এক থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রেখে প্রতারিত হয়েছেন প্রায় ৬০ জন গ্রাহক।

এই বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক উন নবী তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি জানা ছিল না৷ প্রতারিত হওয়া গ্রাহকরা যদি আমাদের সহায়তা চান, আমরা সর্ব প্রকার সহায়তা করবো’।