দেড় লাখ টাকায় শিশু ধর্ষণ অভিযোগ ধামাচাপার চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

এন এ মুরাদ ।। কুমিল্লার বাঙ্গরায় শিশু কণ্যাকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জসিম উদ্দিন ফেরদৌস (৪০) নামে এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে । গত ( ২৩ জুন) বৃহষ্পতিবার উপজেলার টনকী ইউনিয়নের মাজুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠক বসে। এসময় তারা দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
শনিবার (২৫ জুন) অসহায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে এলাকাবাসী দাঁড়ালে শিশুটির মা কুলসুম বেগম (২৪) বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসকে আটক করেন।
ভিকটিম শিশুটির মা জানায়, সামছুল হকের ছেলে জসিম উদ্দিন ফেরদৌস আমার মেয়েকে ডেকে তার দু-তলা বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় সেতু বেগম (৪৫) বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমের দরজা ধাক্কা-ধাক্কি করলে ধর্ষক দরজা খোলে আমার মেয়েকে তাড়াহুড়া করে বাহির করে দেয়।
এব্যাপারে সরেজমিন গিয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসের সাথে কথা হলে সে জানায়, আমি রুমের ভিতর মেয়েটিকে নিয়ে ৫ মিনিট উলঙ্গ করে দেখেছি আর কিছু করি নাই। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার তার বাড়ির উঠানে সালিশ বসে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে মিমাংশা করার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় সুজন ,কাউছার, ছাদেক মিয়াসহ আরো অনেকে জানান, ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সালিশ বসে। জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকায় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। উক্ত রায়ে মেয়ের পক্ষ আপত্তি জানিয়ে ন্যায় বিচারের আশায় শনিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
এবিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীকে আটক করা হয়েছে। তাকে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।