ধর্ষণ-অশ্লীল ছবি ধারণ করে চাঁদা আদায়, প্রেমিকসহ গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নোয়াখালী প্রতিনিধি  : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অশ্লীল ছবি ধারণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে প্রেমিকসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দুই আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে তাদের উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- তরিকুল ইসলাম বাবু বসুরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন মাদুলী নিবাসের ইসমাইলের ছেলে এবং আবুল খায়ের পুটন রামপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী মিয়াজী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে।

 

জানা যায়, ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিয়ের প্রলোভনে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন প্রেমিক বাবু। ১৪ আগস্ট বিকেলে ৫টার দিকে আবারো ওই কিশোরীকে নিয়ে ওই বাড়িতে গেলে আসামি আবুল খায়ের পুটন ও ইমাম হোসেন রুবেল বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। একপর্যায়ে পুটন ও রুবেল তাদের বিভিন্ন অশ্লীল ছবি মোবাইলে ধারণ করে প্রেমিক বাবুর থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে।

দাবিকৃত টাকা না দিলে ধারণকৃত বিভিন্ন অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মানসিক নির্যাতন করে। এতে প্রেমিক বাবু তার আত্মীয়ের মাধ্যমে আসামি রুবেলের বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠায়।  ১৪ আগস্ট রাত ১১টার দিকে বাবু ধারণকৃত বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ডিলিট করেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় ঘটনাস্থল যান বাবু। এ সময় পুটন ও রুবেলকে ঘরের ভেতর দেখে বাবু তার বন্ধুদের ডেকে আনেন। তারা ঘটনাস্থলে এলে পুটন ও রুবেলের বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে সোমবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ প্রেমিক বাবু ও বখাটে পুটনকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আক্তার হোসেন জানান, এ ঘটনায় সোমবার প্রেমিক বাবুসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে তাদের গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।