নগরীতে দখল উচ্ছেদের খেলা দুই দোকানিকে মামলা #প্রশাসন আরো কঠোর হতে হবে #সকল কর্ণারের আন্তরিকতা লাগবে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সুফিয়ান রাসেল ।। কুমিল্লা নগরীতে মাস ব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলছে। গতকাল বুধবার চকবাজার, রাজগঞ্জ, কান্দিরপাড় হয়ে টমচমব্রিজ পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। মাসব্যাপী চলা এ অভিযানের ফল পাচ্ছে না নগরবাসী। উচ্ছেদের দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে আবার দখল করছে। নগরিকরা মনে করেন প্রশাসন আরো কঠোর হতে হবে। প্রশাসন বলছে সকল কর্ণারের আন্তরিকতা লাগবে।

সূত্রমতে, গত ৩০ জানুয়ারি কুমিল্লা সার্কিট হাউসে এক জরুরি সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ ও সিটি করপোরেশন মেয়রকে নিয়ে জরুরি সভা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহার উদ্দিন এমপি বাহার। সভায় নগরীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাইকিং করে সব অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় অভিযান। অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে আছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ১০ টায় চকবাজার থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত অভিযানে সড়কের উভয় পাশের ফুটপাথ দখল মুক্ত করার তিন ঘণ্টা পর বেশীর ভাগ দোকান পূর্বের অবস্থানে চলে আসে। শিক্ষাবোর্ডের সামনের সড়কে রাখা এম্ব্যুলেন্স সরিয়ে ফেলার এক ঘণ্টার মধ্যে আবার সড়ক দখল করে। একই চিত্র টমচমব্রিজ বাজারে।
ম্যাজিস্ট্রেট কাঁচাবাজার থেকে না বের হতেই ব্রিজের উপরের ফল দোকান সামিয়ানা টানিয়ে সড়কের প্রায় চার ফিট অংশ আবার দখলে নেয়। এ সময় রায়হান (৪০) নামের একজন দোকানীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, সতর্ক করা বা অর্থদন্ড নয়। অভিযুক্তদের মামলা দিতে হবে। একমাস বা তিনমাস মেয়াদে কারাদন্ড দিতে হবে। তাহলে অন্যরা দখল করতে সাহস করবে না। কারাগারে থাকাকালিন এ স্থানে নতুন দখলদার তৈরি হবে না। পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ইচ্ছা লাগবে।

গতকালের অভিযান ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সাহকারী কমিশনার মো. আবদুর রহমান। তিনি জানান, সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াতে দুইটি দোকানকে দুই হাজার করে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চকবাজার থেকে রাজগঞ্জ-কান্দিরপাড় হয়ে টমচমব্রিজ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছি। শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। নাগরিকগণ নিজেরা সহযোগিতা না করলে কেবল অভিযানে দীর্ঘ মেয়াদী সুফল হবে না। অভিযানের সুফল পেতে সকল কর্ণারের আন্তরিকতা লাগবে।