নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি ॥ অপপ্রচারের অভিযোগ এনে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান মজুমদার। শনিবার রাজধানীর সোয়ারীঘাট এলাকার চিসতিয়া মার্কেটের নিজ কার্যালয়ে শাহজাহান মজুমদার এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন জোনাল কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আ.জ.ম মহসিন ভূঁইয়া, নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব উপদেষ্টা অধ্যক্ষ সায়েম মাহবুব, সিনিয়ার সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম সহ নাঙ্গলকোটে কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার বলেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন কালু নিজ বাসভবনে তার পিতাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধ মামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। পত্রিকায় সংবাদ এসেছে তার পিতার বিরুদ্ধে কোলাবরেটরস স্পেশাল ট্রাইবুনালে মামলা ছিল, স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে এ মামলা হয়। সামছু উদ্দিন কালুর সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত বিরোধ নেই । অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এমপি নাঙ্গলকোট থেকে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনয়নের প্রক্রিয়া হয়। একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকার মাধ্যমে সেখানে আমি ৭২ ভোট, সামছু উদ্দিন কালু ৩৪ ভোট এবং রফিকুল হোসেন ২৬ ভোট পান। সে থেকেই তিনি আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যাচার করছেন। বর্তমান অপপ্রচারও তারই অংশ। আমি মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই মিথ্যাচারের বিচার নাঙ্গলকোট বাসীর উপর ছেড়ে দিলাম।
আমি ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগ কর্মী হিসাবে সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে জিতানোর জন্য কাজ করি। এতে তৎকালীন জাতীয় নেতা কাজী জাফর পরাজিত হয়। তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় এসে আমার ইন্ডাষ্টিতে আসেন। তখন আমার ভাই হুমায়ুন মজুমদার তার সফর সঙ্গী ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া আবার মনোনয়ন পাওয়ার পর আমাদের মৌকরা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৯৫০০ ভোট পান তিনি। ১৯৭৯ সালে নির্বাচনে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে আমার ভূমিকার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তিনি আমাকে উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য করেন।
১৯৮৭ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে ছিল। জাতীয় পার্টি ছিল ক্ষমতায় । ১৯৮৭ সালে জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে উপজেলা ঘেরাও করা হয় ২৬ অক্টোবর। ওই দিন নাঙ্গলকোটে শহীদ হন যুবলীগ নেতা আবদুল হামিদ। একই দিন হামলায় আহত হন শত-শত নেতাকর্মী এবং শতাধিক আওয়ামীলীগ কর্মী কারাবন্দী হন। এ হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালু, যিনি এখন আওয়ামীলীগে অভিনয় করছেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে আ’লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ আব্দুল হামিদের কবর জেয়ারত করেন এবং ওই ২৬ শে অক্টোবরকে নাঙ্গলকোট দিবস ঘোষনা করেন। এ ঘোষনা ওই সময়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করে।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার জন্য কাজ করি। নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে আমার ভাই সহ অন্যান্যরা আহত হয়। বাড়ির টিভি এবং আসাবাবপত্র ভাংচুর করে। ১৯৯১ সালে আমার বাড়িতে হামলার পর আমি শপথ করি, পরবর্তী নির্বাচন সমূহে আওয়মীলীগ প্রার্থীকে জিতানোর জন্য আমার জীবনে অর্জিত অর্থ এবং শ্রমঘাম ব্যয় করবো। এটা নাঙ্গলকোটের আওয়ামী ঘরানার সকল লোক জানে এবং নাঙ্গলকোট থানা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠানে আমি বহুবার বলেছি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আমার অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার পেছনে, আমি তার ছায়া সঙ্গী ছিলাম সব সময়। ওই সময় যত রাজনৈতিক কর্মসূচি হত সব জায়গাতে আমার অর্থ ব্যয় ছিল সর্বোচ্চ।
যারা আজকে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার বিষয়ে মায়া কান্না করেন তার তো ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে প্রয়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ভুইয়ার বিরোধীতা করেন এবং অশ্রাব্য, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, উপহাস করতেন। ১৯৯৬ সালে জয়নাল ভূইয়া নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার মধু আহরণের জন্য চারদিকে স্বার্থন্বেষী লোকেরা ভিড় জমাতে থাকে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ২৭ মার্চ ১৯৯৭ সালে জাতীয় পার্টি থেকে কালু চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগে যোগদেন। সেই যোগদান অনুষ্ঠানে থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাধারন সম্পাদক কেউ ছিল না। এ থেকে শুরু হয় নাঙ্গলকোট আওয়ামীলীগের গ্রুপিং । তখন নবাগতরা মজু গ্রুপ নামে কার্যক্রম চালু করে। ম-তে মদ এবং জ-তে জুয়া এ দুটিকে ভিত্তি করেই তারা নিজেদের করায়ত্ত্ব করতে থাকে কর্মীদের । সেই সময় থেকে দলে ব্যক্তি বন্দনা এবং ব্যক্তি রাজনীতি বিস্তার লাভ করতে থাকে।
এক পর্যায়ে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে জিম্মি করে সেই মজু গ্রুপ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিতে থাকে, এতে সাধারণ নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। পরে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এদের থেকে বেরিয়ে আসে। এর ফলে মজু গ্রুপ জয়নাল ভূঁইয়ার পিছনে ষড়যন্ত্র শুরু করে। জয়নাল ভূঁইয়ার পরিবারের লোকজন মজু গ্রুপের কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ হলে মধ্যপ অবস্থায় মজু গ্রুপের সদস্যরা জয়নাল ভূঁইয়ার বাসায় আক্রমন করে এবং দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে।
২০০১ সালে নির্বাচনে এ মজু গ্রুপের কেউ ভোট কেন্দ্রে ছিল না, এদের কারণেই নৌকা প্রতীক পরাজিত হয়। এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে “উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে” চাপাতে চেষ্টা চলছে। ২০০১ সালে নির্বাচনে মোডশ্বের গ্রামে বিএনপি’র আক্রমনে আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুস শহীদ হন। বিএনপি এ লাশ ছিনতাই করে ক্ষমতা অপব্যবহার করে আওয়ামীলীগের শত শত নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দেয়। আসামীরা ঢাকায় আসলে আমি তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ও মামলা জামিন করাই নিজ অর্থে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাদের পরিবারের সকল সদস্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় আমাদের বাড়ীতে রাজাকার বাহিনী হামলা চালায় । আমাদের গ্রেমের লোকজন ঐক্যবদ্ধ ভাবে সবাই মিলে রাজাকারদের আক্রমন প্রতিহত করে। এতে বক্কা রাজাকার, মনাইজ্যা রাজাকার এবং হাব্বা রাজাকার গুরুতর অহত হয়। পরবর্তীতে রাজাকার এবং পাঞ্জাবীরা দলবদ্ধ হয়ে আমার বাবা এ.কে.এম হিরমত আলী মজুমদার, আমার জেঠা মৌলভী হাসমত উল্যাহ মজুমদার ও আমার বড় জেঠা আবদুল আজিজ কে হাসানপুর আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়, মৌকারা দরবারের পীর সাহেব ক্যাম্পে গিয়ে এদেরকে ছাড়িয়ে আনেন।
২০০৫ সালে ময়ুরা হাই স্কুল মাঠে প্রয়াত সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন ভূইয়ার স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলাম আমি, সে সভায় বহু আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর আমার বিরুদ্ধে অহেতুক, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মনগড়া কথা বানিয়ে বলা হচ্ছে।
বর্তমানে পূর্বেকার সেই মজু গ্রুপ নাঙ্গলকোট প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে, নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে, অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। তিনি আরো বলেন আমি চাই আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ গড়বে।