নির্বাচনী উৎসব শুরু কুমিল্লায়… সম্ভাব্য এক ডজন মেয়র প্রার্থী মাঠে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

শাহাজাদা এমরান।।

আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনের তফসিল গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষনার পরই নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়ে গেছে নগর কুমিল্লায়। ইতিমধ্যে মেয়র পদে সম্ভাব্য এক ডজন প্রার্থী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মাঠে কাজ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে সংরিক্ষত মহিলা আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি কবিরুল ইসলাম শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু, কুমিল্লা চেম্বারের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, সাবেক জিএস ফারুক আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমানসহ আরো কয়েকজন।

অপর দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা বিএনপি সদস্য কাউসার জামান বাপ্পী ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাবেক ছাত্র নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।

আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছে, মেজর (অব.) মামুন ও নাগরিক ফোরামের কামরুল আহসান বাবুল।

আওয়ামীলীগ :

নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপি এক কথায় বলেন, আমি প্রস্তুত। নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি, দোয়া করবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগ বর্ধিত সভা করে আমাকে একক প্রার্থী করেছে। আশা করি বিগত দিনে দলের জন্য আমার অবদানকে নেত্রী মূল্যায়ন করবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের অপর তিন নেতা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম, কবিরুল ইসলাম শিকদার ও আনিছুর রহমান মিঠু এবং কুমিল্লা চেম্বারের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান (সিআইপ) পৃথকভাবে এই প্রতিবেদকের সাথে তাদের কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচনের জন্য কাজ করছে। দলের তৃণমূল পর্যায়ে তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে। তারা তিনজনই আশাবাদি, দল ও নেত্রী তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিবেন।

আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী জিএস ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে এবার সিটি নির্বাচনে নৌকা পাওয়ার দাবি রাখি আমি।

সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, এবার জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি মনোনয়ন চাইব।

বিএনপি :

বিএনপির বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, দেখি দল নির্বাচনে যায় কিনা। দল নির্বাচনে না গেলে সবার সাথে বসে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহন করব।

জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পী বলেন, দল নির্বাচনে গেলে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আশা করি আমার অতীত কর্মকান্ড বিবেচনা করে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

বিএনপির তরুণ প্রার্থী, কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, যৌক্তিক কারণে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমার দল বিএনপি হয়তো নির্বাচনে যাবে না। আমি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাপে আছি নির্বাচন করার জন্য। আমি খুব শিগগিরই দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে বসব। নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চায় তাহলে দলের অনুমতি নিয়ে আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আমি অংশ নেব ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে একীভূত করে ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। ওই বছরই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৭ সালে এসে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি ইউপিকে অন্তর্ভুক্ত করে এ সিটির আয়তন বাড়ানো হয় প্রায় তিনগুণ। এতে সীমানা জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে এ সিটিতে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠনের পর থেকে মেয়র পদে দুটি নির্বাচনেই নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু। গত নির্বাচনে এ সিটিতে ১০৩টি কেন্দ্রে ছিল আর ভোটার ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন।