পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তুমুল হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

পাকিস্তানে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবার কথা। পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা এক অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে আজ, কিন্তু সকালে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হলেও বারবার তা মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় ভোটাভুটি এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে মি. খান ভোটাভুটিতে হেরে যাবেন, কারণ কয়েকটি শরীক দল তার সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় ইমরান খান পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছেন।

মি. খানের দল রবিবার পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেওয়ায় এই অনাস্থা ভোট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু অনাস্থা ভোটের আগে ইমরান খানের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংসদের ভেতর তুমল হট্টগোল আর ক্রুদ্ধ বাকবিতণ্ডা শুরু হলে জাতীয় পরিষদের স্পিকার সাময়িকভাবে অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।

এর দুঘণ্টা পর আবার অধিবেশন শুরু হয়। জানা যাচ্ছে ইফতারের পর সম্ভবত ভোটাভুটি হবে স্থানীয় সময় রাত আটটা নাগাদ।

বিবিসির একজন সাংবাদিক বলছেন মি. খানের হেরে যাবার বড়ধরনের সম্ভাবনা থাকায় তার সমর্থকরা ভোট যতটা বিলম্বিত করা সম্ভব সে চেষ্টা করেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় সংসদে ভোটাভুটি বাতিল করে দেবার পদক্ষেপ অসাংবিধানিক বলে রায় দেবার পর বিরোধী সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন
 

ইমরান খানের হারার সম্ভাবনা কতটা?

জাতীয় পরিষদের ৩৪২ জন সদস্যের মধ্যে ১৭২ জন মি. খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দিলে তিনি হেরে যাবেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা আজ বিপুল সংখ্যায় পরিষদে উপস্থিত রয়েছেন। বিরোধীরা দাবি করছেন মি. খানের বিপক্ষে ১৮০টি ভোট পড়বে বলে তারা ধারণা করছেন অর্থাৎ তারা আস্থাবান যে মি. খান এই ভোটে টিকতে পারবেন না।

পিএমএলএন বা নাওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ পার্টির নেতা শহীদ খাকান আব্বাসি বলছেন বিরোধী দলগুলো থেকে ১৬২টি ভোট নিশ্চিতভাবে মি. খানের বিপক্ষে যাবে এবং এর বাইরে আরও যে দশটি ভোট দরকার তা তারা সহজেই পাবেন বলে মনে করছেন।

অন্যদিকে, ইমরান খানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দল এমকিউএম, ইমরান খানের তেহরিক-ই ইনসাফের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবার পর মি. খানের হাতে রয়েছে মাত্র ১৬৪টি ভোট যা তার টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়।

এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মি. খানের নিজের দলের ডজনখানেকের বেশি সদস্য দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।