প্রেম,সাম্য আর মানবতার কবি নজরুল———— মো: এমদাদুল হক ইয়াছিন

( কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা)
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো। তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’ কিংবা ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী-দেবো খোঁপায় তারার ফুল’ এমন সব মনকাড়া বানী নিয়ে চির অম্লান দ্রোহ,প্রেম,সাম্য আর মানবতার কবি, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। জাতীয় কবিকে যুগ যুগ ধরে বিনম্র শ্রদ্ধা,ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় স্মরন করবে কুমিল্লাবাসীসহ দেশবাসী। কবি যৌবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন কুমিল্লাতেই।
বাংলা সাহিত্যের ক্ষণজন্মা, বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা সাহিত্যে দৃঢ়তা বা শক্তিময়তার যে অভাব ছিল, তার সৃষ্টি দ্বারা তিনি অবলীলায় তা পূরণ করেছেন। প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি বাংলাদেশের মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন। ১৯৭৭ সালে ৭৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘বিদ্রোহী’ রচনার পরই নজরুলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার প্রশংসা করেছিলেন। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘চৈতালী’ কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৬ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন। নজরুল সংগ্রাম করেছেন পরাধীনতার বিরুদ্ধে। তিনি পরাধীন জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে চেয়েছেন। তার বিদ্রোহ ছিল সে জন্যই। তার এই বিদ্রোহের মূলে ছিল মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রীতি ও সাম্যবাদী মনোভাব। কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৪১ সালে কলকাতার মুসলিম ইন্সটিটিউট হলে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘যদি আর বাঁশি না বাজে, আমি কবি বলে বলছিনে, আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছিলাম সেই অধিকারে বলছি আমায় ক্ষমা করবেন, আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন,আমি কবি হতে আসিনি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।’ এরপর সত্যিই সারাজীবন মানবতার জন্য লড়াই করা কবি কাজী নজরুল ইসলাম চিরদিনের মতো মূক হয় যান। কবরে শুয়ে আযানের ধ্বনি শোনার আকাঙ্ক্ষা নজরুলের পূরন হয়েছে। বাংলার মাটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গঁনে কবি চিরনিদ্রায় শায়িত। একজন কবি প্রেমী হিসেবে সম্প্রতি আমি কবির মাজার জেয়ারত করে এসেছি। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি।